ভালো-মন্দ বোলিংয়ের পর বাংলাদেশ যে লক্ষ্যটা পেয়েছিল তাকে কঠিন বলা চলে না। দুবাইয়ের যে মাঠে ১৬৮ রান তাড়া করে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেই একই রান তাড়া করতে গিয়ে এবার ভারতের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছে টাইগার ব্যাটিং লাইনআপ। চলতি এশিয়া কাপের ফাইনালে যাওয়ার রাস্তা বাংলাদেশের এখন একটাই। পাকিস্তানকে হারাতে হবে।
এজন্য বিশ্রামের সুযোগ নেই। ভারতের কাছে হারের পরের দিন বৃহস্পতিবারই পাকিস্তানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ম্যাচ শুরু সেই সাড়ে ৮টায়।
বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে ফাইনালের জায়গা দখলে নিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের এই হারে এশিয়া কাপের সুপার ফোর থেকে বিদায় ঘন্টা বেজেছে শ্রীলঙ্কার। ২ ম্যাচ খেলে ২টিতেই হেরেছে লঙ্কানরা। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ হবে। ২টি করে ম্যাচ খেলে ২ করে পয়েন্ট আছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল ভারত। ফলে সুপার ফোরে ২ ম্যাচ খেলে পূর্ণ ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে শিরোপা প্রত্যাশি দলটি।
অথচ এদিন দারুণভাবে টিম ইন্ডিয়াকে চেপে ধরেছিল বাংলাদেশ। তৈরি করেছিল জয়ের সম্ভাবনা। দুবাইয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামা ভারত প্রথম ৩ ওভারে তুলতে পারে ১৭ রান। এসময় অভিষেক শর্মার ক্যাচ গ্লাভসে জমাতে পারেননি জাকের আলি। লিটন দাসের চোটের সুযোগে নেতৃত্ব দেওয়া জাকেরের এই ক্যাচ মিসেরই চরম মূল্য দিতে হয় দলকে। এরপর ডানা মেলেন অভিষেক। পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে ৭২ রান।

তবু ২০ ওভার শেষে ভারত করতে পারে ৬ উইকেটে ১৬৮। এর কৃতিত্ব দিতে হবে বাংলাদেশের বোলারদের। শেষ ওভারে স্রেফ ৪ রান দেন সাইফউদ্দিন। ২ ওভারে ৭ রান দেন সাইফ হাসান।
সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসে টানা দুই ওভারে দুই উইকেট নেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। পরে তারই দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে অভিষেক রান আউট হয়ে ফিরলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।
৭ বলে ৭ রানে থাকতে জাকেরের হাতে জীবন পাওয়া অভিষেক শেষ পর্যন্ত আউট হন ৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৩৭ বলে ৭৫ রান করে।
এরপরও সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান করার পরও। এরপর পাল্টে যেতে থাকে গল্প। ওপেনার সাইফ হাসান ও তিনে নামা পারভেজ হোসেন ইমন ছাড়া ভারতীয় বোলারদের ধাঁধা মেলাতে পারেননি আর কেউ।
১৯ বলে ২১ রান করা ইমনকে থামিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙেন ভারতের স্পিনার কুলদীপ যাদব। এরপর ব্যাটারদের কেবল আসা-যাওয়ার গল্প।
এক প্রান্ত আগলে ভারতের বোলারদের সামনে লড়াই করেন সাইফ। ছক্কা মেরে ৩৬ বলে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি।
১৮তম ওভারে দলীয় ১১৬ রানে নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হন সাইফ। দুইবার জীবন পেয়ে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫১ বলে ৬৯ রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১২৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। সাইফ ও ইমন ছাড়া বাংলাদেশের আর কোন ব্যাটারই দুই অংকে পা রাখতে পারেনি।
এবার বাংলাদেশের সামনে শেষ সুযোগ। পাকিস্তানকে হারিয়ে সমীকরণ মেলাতে চায় টাইগাররা।


















