ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ন

এনভিডিয়া-এএমডি চিপ বিক্রির ১৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে সম্মত

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া এবং এএমডি চীনে তাদের উচ্চমাণের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিক্রির ১৫ শতাংশ আয় যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দেওয়ার জন্য এক বিশেষ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তি চীনের বাজারে রপ্তানি লাইসেন্স পেতে এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ মিটিয়ে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝেও নতুন একটি মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সোমবার (১১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

চলতি আগস্ট মাসে প্রকাশিত এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া এবং এএমডি চীনে বিক্রি হওয়া তাদের বিশেষায়িত এআই চিপ যেমন এনভিডিয়ার এইচ২০ ( H20) এবং এএমডির এমআই৪০৮ ( MI308) থেকে আয়ের ১৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে দিতে সম্মত হয়েছে। বিবিসি একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এনভিডিয়া জানিয়েছে, তারা মার্কিন সরকারের নিয়ম মেনে বিশ্ববাজারে অংশগ্রহণ করে এবং আশা করে যে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা তাদের চীনে ও বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতায় থাকতে সাহায্য করবে। এএমডির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এনভিডিয়া আরও বলেছে, “আমেরিকা ৫জি প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়তে পারে না এবং টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব হারাতে পারে না। আমেরিকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বিশ্বমানের হতে পারে যদি আমরা দ্রুত এগিয়ে যাই।” বিশ্বব্যাপী গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লি দাই এই চুক্তিকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, “এটি প্রযুক্তি বাণিজ্যে বাজারে প্রবেশের খরচ ও কৌশলগত অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি করেছে।”

গত বছর বাইডেন প্রশাসনের কঠোর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর এনভিডিয়া চীনের বাজারের জন্য বিশেষভাবে এইচ২০ চিপ তৈরি করেছিল, যা পরে ট্রাম্প প্রশাসন এপ্রিল মাসে নিষিদ্ধ করে। এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াং কয়েক মাস ধরে মার্কিন ও চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিক্রয় পুনরায় শুরু করার জন্য আলোচনায় ছিলেন।

চীনে চিপ বিক্রির পুনরায় শুরু হচ্ছে এমন সময় যখন বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা শিথিল হয়েছে। বেইজিং রেয়ার আর্থ রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র চীনে চিপ ডিজাইন সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কমিয়েছে। গত মে মাসে দুই দেশ ৯০ দিনের শুল্ক বিরতি ঘোষণা করেছিল, তবে সেই বিরতি বাড়ানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ট্রাম্প প্রশাসন বড় বড় কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি অ্যাপল ও মাইক্রন টেকনোলজি যথাক্রমে ১০০ বিলিয়ন ও ২০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। এনভিডিয়াও যুক্তরাষ্ট্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এআই সার্ভার নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ আমেরিকান তৈরি প্রথম এআই সুপারকম্পিউটার। তথ্যসূত্র : বিবিসি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ