ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ৫:২৮ অপরাহ্ন

ইলন মাস্ককে রাজনীতি নয়, ব্যবসায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

বিশ্ববিখ্যাত উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকা পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু এই রাজনৈতিক পদক্ষেপে খুশি নন দেশটির বর্তমান অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন— মাস্কের উচিত রাজনীতি নয়, বরং তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়া।

গত শনিবার (৫ জুলাই) ইলন মাস্ক এক্সে ঘোষণা দেন, তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছেন, যার নাম ‘আমেরিকা পার্টি’। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দুই-দলীয় ব্যবস্থার (রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট) বিরুদ্ধে বিকল্প গড়তে তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। মাস্কের এই পদক্ষেপ মার্কিন রাজনীতিতে আলোড়ন তোলে। পরদিন রোববার (৬ জুলাই) সিএনএন-এর ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, মাস্কের এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়িক দায়দায়িত্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তাঁর উচিত রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়িয়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করা।

অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট মন্তব্য করেন, “মাস্কের টেসলা ও স্পেসএক্স— এই দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ নিশ্চয়ই চাইবে তিনি রাজনীতিতে না জড়ান।” তিনি বলেন, মাস্কের ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা সম্ভবত পর্ষদ সদস্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। তাদের পক্ষ থেকে মাস্ককে ব্যবসায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ আসবে বলেও মত দেন বেসেন্ট

বেসেন্ট আরও বলেন, “যদিও মাস্কের নেতৃত্বে থাকা সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) জনপ্রিয়তা পেয়েছিল, কিন্তু তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের কাছে খুব জনপ্রিয় নন।” তাঁর মতে, মাস্কের বর্তমান অবস্থান তাঁর কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব পালনে প্রশ্ন তুলতে পারে।

এদিকে, বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আজোরিয়া পার্টনার্স জানিয়েছে, তারা টেসলার সঙ্গে একটি নতুন যৌথ তহবিল চালুর পরিকল্পনা করেছিল। তবে মাস্কের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণে তারা সে উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সিইও জেমস ফিশব্যাক বলেন, মাস্কের রাজনীতিতে সক্রিয়তা ও সিইও হিসেবে তাঁর দায়দায়িত্বের মধ্যে সংঘাত রয়েছে কিনা— তা দ্রুত যাচাই করা প্রয়োজন।

এর আগে গত শুক্রবার, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক জরিপ পরিচালনা করেন। তিনি অনুসারীদের জিজ্ঞেস করেন— তারা রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের দুই-দলীয় আধিপত্য থেকে মুক্তি চান কিনা। এর একদিন পরই ‘আমেরিকা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা আসে। মাস্ক বলেন, “দুর্নীতি ও অপচয়ের মাধ্যমে আমেরিকাকে দেউলিয়া করে তোলার বিরুদ্ধে জনগণের স্বাধীনতা রক্ষাই এই দলের লক্ষ্য।”

তবে এই মাস্ক একসময় রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছিলেন এবং তাঁর প্রচারণায় অর্থ দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প মাস্ককে ডিওজিই বিভাগের নেতৃত্বে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই সম্পর্ক ভেঙে পড়ে এবং ক্রমেই তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তথ্যসূত্র : রয়টার্স

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ