ঢাকা, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ন

নতুন বছরে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি চান সাধারণ মানুষ

ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেও উদ্বেগ আর অস্থিরতার মধ্যে সময় কাটছে দেশের স্বল্প আয়ের মানুষের। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং লাগামহীন বাজার পরিস্থিতিতে বর্ষবরণের আনন্দ তাদের জীবনে যেন একপ্রকার বিলাসিতার মতো। ২০২৫ সালের শুরুতে তারা সরকারের কাছে জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

রিকশাচালক হাশেম মিয়ার গল্প
১৯৮৬ সাল থেকে রাজধানীতে রিকশা চালাচ্ছেন হাশেম মিয়া। তার জীবনে আশার আলো খুব একটা আসেনি। বয়স বাড়লেও জীবনযুদ্ধে লড়াই থামেনি। হাশেম বলেন, “স্বাধীন দেশে নিজের পরিবারের সঙ্গে নিশ্চিন্তে বাঁচতে চাই। সরকারের কাছে অর্থনৈতিক মুক্তি চাই।”

প্রতিবন্ধী শাহজাহানের সংগ্রাম
প্রায় ষাটোর্ধ্ব শাহজাহান এবং তার স্ত্রী দুজনই শারীরিক প্রতিবন্ধী। বয়স্ক ভাতা বা প্রতিবন্ধী সুবিধা কোনো কিছুই তারা পাননি। বাধ্য হয়ে রিকশার গ্যারেজে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে হয়। নতুন বছরে তার একমাত্র চাওয়া—সরকারি সহযোগিতা।

জীবনযাত্রার ব্যয়ে স্বস্তি খুঁজছে মধ্যবিত্ত
মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী শ্রেণির জন্য নতুন বছর মানেই বাড়ি ভাড়া ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বাড়া। তারা বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবি জানিয়েছেন।

অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও সঠিক পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ বলেন, “বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটিকে আরও সক্রিয় করা উচিত।”

স্বপ্ন ও প্রত্যাশা
বুকভরা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষ নতুন বছরে তাদের জীবনযাত্রার খরচ কমার আশা করছেন। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনাই নতুন বছরের বড় চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ