ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

ব্রেক্সিট পরবর্তী বৃহত্তম বাণিজ্য চুক্তিতে যুক্ত হলো ব্রিটেন

ব্রিটেন আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রান্স-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি (সিপিটিপিপি)-তে ১২তম সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর এটি ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য চুক্তি। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ চুক্তি ব্রিটেনের বৈশ্বিক বাণিজ্য সংযোগকে আরো জোরদার করবে।

চুক্তির গুরুত্ব
চুক্তিতে যোগদানের মাধ্যমে ব্রিটেন সিপিটিপিপি বাণিজ্য নিয়ম প্রয়োগ করতে পারবে এবং ব্রুনাই, চিলি, জাপান, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পেরু, সিঙ্গাপুর ও ভিয়েতনামের সঙ্গে শুল্ক কমানোর সুবিধা পাবে।

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
ব্রিটেনের সরকার আশা করছে, এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বছরে ২০০ কোটি পাউন্ড (প্রায় ২৫০ কোটি ডলার) আয়ের সুযোগ তৈরি করবে। যদিও এটি ব্রিটেনের জিডিপির মাত্র দশমিক ১ শতাংশ।

প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে চুক্তি
মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের সঙ্গে এটিই ব্রিটেনের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। অন্যদিকে চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে পূর্বে চুক্তি থাকলেও নতুন এ পদক্ষেপ কোম্পানিগুলোকে ‘রুলস অব অরিজিন’ ব্যবহারে নমনীয়তা দেবে।

কৌশলগত গুরুত্ব
এই চুক্তি কেবল অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি, চীন ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলো সিপিটিপিপি-তে যোগ দেবে কিনা, সে বিষয়ে ব্রিটেন প্রভাব বিস্তার করতে পারবে।

পূর্বপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
চুক্তিটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি)-এর ভিত্তিতে গঠিত, যা চীনের অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় আংশিকভাবে তৈরি হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে এটি সিপিটিপিপি নামে পুনর্গঠিত হয়।

কোস্টারিকা এবং ইন্দোনেশিয়া এখন সিপিটিপিপি-তে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এটি ব্রিটেনের জন্য একটি বড় মাইলফলক, বিশেষত ব্রেক্সিট-পরবর্তী বিশ্বে বাণিজ্যিক অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ