জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার নিয়ন্ত্রণে ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলোর উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত কুয়েতের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে দেশটির অর্থনীতি মন্দায় থাকবে। তবে মধ্যমেয়াদে অর্থনীতিতে কিছুটা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ওপেক প্লাসের উত্তোলন হ্রাস
ওপেক প্লাস দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর মেয়াদ ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। এর পাশাপাশি দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত উত্তোলন কমানোর পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করবে, যা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকবে।
কুয়েতের অর্থনৈতিক সংকোচন
২০২৩-২৪ অর্থবছরে কুয়েতের অর্থনীতি ১ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হয়। বিশেষ করে জ্বালানি তেল খাতে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ সংকোচন এর অন্যতম কারণ। জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতে ৪ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এই সংকোচন কিছুটা পূরণ করলেও সামগ্রিক অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতি
আইএমএফ জানায়, জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে কুয়েতের অর্থনীতি বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতায় অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভোগ্যপণ্যের দামের অস্থিরতা, বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং আঞ্চলিক সংঘাত অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
২০২৫ সাল থেকে উত্তোলন পরিকল্পনা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পর কুয়েতের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হতে পারে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং জ্বালানি তেলবহির্ভূত খাতের প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।

অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও কুয়েতের আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য শক্তিশালী রয়েছে। ২০২৩ সালে দেশটির রিজার্ভ ছিল ৪ হাজার ৭৬০ কোটি ডলার এবং চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত ছিল জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ।


















