চীন অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন এনেছে। দেশটির কমিউনিস্ট পার্টির পলিট ব্যুরো সম্প্রতি মুদ্রানীতি ‘সতর্ক’ থেকে ‘মাঝারি শিথিল’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ধীরগতির অবসান ঘটানো হবে বলে আশা করছে চীন।
অর্থনৈতিক নীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
বার্ষিক অর্থনৈতিক সম্মেলনের আগে এই ঘোষণা আসে, যেখানে আগামী বছরের জন্য বাজেট ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। নেতারা খরচ বাড়ানো, বিনিয়োগ উন্নত করা এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
অতীতের সঙ্গে মিল
এই ধরনের নীতিগত পরিবর্তন শেষবার দেখা গিয়েছিল ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়। তখনও অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটাতে চীন শিথিল মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছিল।
বাজারে প্রভাব
নীতির পরিবর্তন ইতোমধ্যে চীনা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
- শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি: নীতির ঘোষণার পর চীনা শেয়ারবাজারে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।
- বন্ডের ইল্ড হ্রাস: ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের ইল্ড রেকর্ড ১.৯২ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে এটি বন্ড বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
চীন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ধীর প্রবৃদ্ধি এবং দুর্বল ভোক্তা চাহিদার সম্মুখীন হয়েছে। নভেম্বরে ভোক্তা মূল্য সূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ০.২ শতাংশ বেড়েছে, যা ভোক্তা দুর্বলতা নির্দেশ করে। এরই মধ্যে চীন স্থানীয় সরকারগুলোর ঋণ সহায়তা এবং খরচ বৃদ্ধির মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
মুদ্রানীতির এই পরিবর্তন চীনের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


















