বিশ্বের প্রাচীনতম সানডে পত্রিকা দ্য অবজারভার মালিকানা স্থানান্তরের জন্য সরকারী অনুমতি পেয়েছে। নতুন মালিকানা গ্রহণ করেছে টরটয়জ মিডিয়া।
সাংবাদিকদের প্রতিবাদ সত্ত্বেও বিক্রি প্রক্রিয়া অব্যাহত
ব্রিটেনের গণমাধ্যমের ‘উদার মূল্যবোধের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিত দ্য অবজারভার-এর মালিকানা স্থানান্তরের বিষয়টি দুই দিনব্যাপী ধর্মঘটের সম্মুখীন হয়েছিল। তবে সাংবাদিকদের প্রতিবাদেও বিক্রির পরিকল্পনা থেমে থাকেনি।
টরটয়জ মিডিয়া করবে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ
গার্ডিয়ান মিডিয়া গ্রুপের মালিকানাধীন ছিল দ্য অবজারভার। নতুন মালিক সংস্থা টরটয়জ মিডিয়া-এর কাছ থেকে অনুমোদিত চুক্তি অনুসারে তারা পত্রিকাটিতে আড়াই কোটি পাউন্ড বা ৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে। এর পাশাপাশি, সানডে প্রিন্ট সংস্করণ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্পাদনাধীন স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি
টরটয়জ মিডিয়া জানিয়েছে, সম্পাদনামূলক স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার মান রক্ষায় তারা স্কট ট্রাস্টের মূল্যবোধকে সমর্থন করবে। মালিকানার এই পরিবর্তনে পত্রিকার পাঠকদের জন্য একটি নিরপেক্ষ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দ্য অবজারভারের ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানালো টরটয়জ মিডিয়া
টরটয়জ মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জেমস হার্ডিং বলেন, “অবজারভার হচ্ছে উদারতা এবং পথপ্রদর্শনমূলক সাংবাদিকতার একটি চমৎকার উদাহরণ। আমরা এর ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রক্ষায় কাজ করব।”

স্কট ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ওলে জ্যাকব সুন্ডে বলেন, “অবজারভারের জন্য এমন একটি অংশীদারের প্রয়োজন ছিল যারা দীর্ঘমেয়াদে পত্রিকাটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা ও উদার মূল্যবোধের প্রতিশ্রুতি দেবে।”
দ্য গার্ডিয়ান নিউজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
গার্ডিয়ান নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার সম্পাদক কথিকা ক্যাথরিন ভিনার জানিয়েছেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে এ পদক্ষেপটি অবজারভারের সাংবাদিক, পাঠক এবং ভবিষ্যতের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।”
দ্য অবজারভারের দীর্ঘ ইতিহাস
১৭৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য অবজারভার ১৯৯৩ সালে গার্ডিয়ান মিডিয়া গ্রুপের অংশ হয়। মালিকানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এটি নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


















