রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দূরপাল্লার মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তন এনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের শর্ত শিথিল করেছেন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বৈশ্বিক পুঁজিবাজারে ধস নামিয়েছে। তবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বন্ডের চাহিদা বেড়েছে, ফলে এর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব
রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ছয়টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইউক্রেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর এই হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে পুতিনের নতুন নীতিমালায় রাশিয়ায় প্রচলিত অস্ত্রের বড় ধরনের হামলাকে যৌথ আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে, যা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের পথ খুলে দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের প্রধান পুঁজিবাজার স্টক্স৬০০ সূচক ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে আগস্টের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। ব্রিটেনের এফটিএসই১০০ সূচক ০.৫ শতাংশ কমে তিন মাসের সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। নিউইয়র্কে ডাও জোনস সূচক ০.৮ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি৫০০ সূচক ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রুবলের দরপতন ও বন্ডের চাহিদা বৃদ্ধি

মঙ্গলবার রুবলের বিনিময় হার ০.৮২ শতাংশ কমে প্রতি ডলার ১০০.৫ রুবলে নেমেছে, যা গত বছরের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনের সরকারি বন্ডের চাহিদা বেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছেন, যার ফলে বন্ডের সুদহার বা ইল্ড কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
সিটি ইনডেক্সের বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেছেন, “ইউক্রেনের হামলা বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে। রাশিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটি এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।”
জেফারিস গ্লোবাল এফএক্স প্রধান ব্র্যাড বেখটেল বলেছেন, “মার্কিন অস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা এবং রাশিয়ার পারমাণবিক পদক্ষেপ বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।”


















