বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই তালিকার ৪৫তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া আবাসন ব্যয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অর্থের ঘাটতির প্রতিবাদে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাস্তায় নেমেছেন লাখো মানুষ। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালে ছড়িয়ে পড়া এসব বিক্ষোভ কিছু ক্ষেত্রে সহিংস রূপও নেয় দ্রুত।
এসব বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর সরকারি অর্থ ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপও সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ায় অনেক দেশের সরকার এখন ঋণের বোঝা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। একই সঙ্গে ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদন বলছে, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারও বিভিন্ন প্রয়োজনে ঋণ নিয়ে থাকে। তবে ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার সাধারণত বন্ড বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে। বন্ড কেনার বিনিময়ে সরকার বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট হারে সুদ দেয় এবং নির্ধারিত সময়ে মূল টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। যেমন– ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ক্ষেত্রে ঋণ নেওয়ার ১০ বছর পর মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের দেশগুলোর মোট ঋণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার। সরকারি ঋণের দিক থেকে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি ঋণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশের সমান। দ্বিতীয় স্থানে চীন। দেশটির ঋণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের সরকারি ঋণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। চার নম্বরে থাকা যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, জিডিপির ১০২ শতাংশ।
অন্যদিকে বিশ্বে সরকারি ঋণের মোট পরিমাণের দিক থেকে ফ্রান্সের অবস্থান পঞ্চম। দেশটির ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের অবস্থান এই তালিকায় ৪৫তম। দেশের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৪০ শতাংশের সমান।

২০১০ সালে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। দেড় দশকে ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে। তবে জিডিপির অনুপাতে বাংলাদেশের ঋণের বোঝা উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় এখনও কম।


















