বীমা খাতের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পলিসি খোলা ও লেনদেনে ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বীমা পলিসির আড়ালে কেউ যাতে অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ না পায়, সে জন্য পাঁচ বছর বা তার কম মেয়াদি পলিসিকে এখন থেকে ‘উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন’ হিসেবে শ্রেণীকরণ করে আলাদা তদারকি করতে হবে। গতকাল সোমবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সব ব্যাংকে পাঠানো হয়।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে কাজ করা এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজি) ২০২৭-২৮ মেয়াদের প্রস্তুতি ও যাচাইয়ের প্রাথমিক মূল্যায়ন হয় গত আগস্টে। গত আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেশের পুঁজিবাজার ও ব্যাংকিং খাতের নজিরবিহীন লুটপাট ও অর্থ পাচারের প্রভাব আগামী মূল্যায়নে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকে। সর্বশেষ ২০১৬ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশ ‘কমপ্লায়েন্ট কান্ট্রি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আগামী মূল্যায়নকে সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ সম্পর্কিত দিকনির্দেশনা হালনাগাদ করছে বিএফআইইউ।
গতকালের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থা অনুসরণের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। আর এ জন্য পলিসি খোলা ও লেনদেনের সময় গ্রাহকের পেশা, ব্যবসার প্রকৃতি, এলাকা ও পলিসির প্রকৃত সুবিধাভোগী (বেনিফিশিয়াল ওনার) বিবেচনা করে গ্রাহককে উচ্চ বা নিম্ন ঝুঁকিতে ভাগ করতে হবে। বীমা পলিসির মেয়াদ যদি পাঁচ বছর বা তার কম হয়, তবে সেটিকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এ ধরনের পলিসির ওপর নিয়মিত নিবিড় তদারকি করতে হবে। পাঁচ বছরের কম মেয়াদি পলিসির গ্রাহকের প্রতিবছর কেওয়াইসি হালনাগাদ করতে হবে। নিম্ন ঝুঁকির গ্রাহকের ক্ষেত্রে যেখানে প্রতি পাঁচ বছর পর তথ্য হালনাগাদ করতে হবে।
জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অবৈধ আয়ের উৎস গোপন করতে অনেকে কম মেয়াদি বীমা পলিসি করে থাকেন। দুই-তিন বছর মেয়াদি পলিসির মেয়াদপূর্তির পর হয়তো কেউ আয়কর নথিতে দেখান, বীমা পলিসি থেকে তাঁর এই অর্থ এসেছে। তাই এ ধরনের পলিসিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
বিএফআইইউর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস চ্যানেল ব্যবহার না করে কোনো গ্রাহকের প্রিমিয়াম জমা, দাবি পরিশোধ বা রিফান্ড এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ লেনদেন হলেই তা বিএফআইইউতে রিপোর্ট করতে হবে। প্রতি মাসের নগদ লেনদেনের এই তথ্য পরবর্তী মাসের ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিএফআইইউর গোএএমএল পোর্টালে পাঠাতে হবে। এই তথ্য বীমা প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী অন্তত পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, বেনামে বা ছদ্মনামে কোনো বীমা পলিসি করা যাবে না। এ ছাড়া জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী বা বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত নিষিদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা সত্তার নামেও পলিসি খোলা যাবে না।


















