কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুটি সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় একটি ডাবল কেবিন পিকআপ জব্দসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে মৌলভীবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ডাবল কেবিন পিকআপ হোয়াইক্যং চেকপোস্টে পৌঁছায়। গাড়িটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় পিকআপের পেছনের সিট কাভারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মাদক পরিবহনের অভিযোগে পিকআপচালক মো. সাইফুল ইসলামকে (৩১) আটক করা হয়। তিনি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার গোসাইডাঙ্গা গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ও তার মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে ওই রাতেই উখিয়া উপজেলার পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তসংলগ্ন উলুবনিয়া মাছের খামারের পাশে বেড়িবাঁধে অবস্থান করছিল। এ সময় মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে পোটলা হাতে তিন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়।

টহল দল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পোটলা ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে তিনজনকেই আটক করেন। ফেলে যাওয়া পোটলা থেকে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- উখিয়ার পালংখালী (কাটাহাল) এলাকার মৃত কাদেরের ছেলে রাসেল (২৩), উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত সিদ্দিকের ছেলে খাইরুল আমিন (২৪) এবং পালংখালীর বকসুর আহম্মেদের ছেলে শাকিল (২২)।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিজিবি সদর দপ্তরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্তে মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। মাদক কারবারিরা যত বড় সিন্ডিকেটের সদস্যই হোক কিংবা যত অভিনব ও প্রযুক্তিনির্ভর কৌশলই ব্যবহার করুক, বিজিবির পেশাদারত্ব, দেশপ্রেম ও কঠোর নজরদারির কারণে তারা পার পাবে না।
তিনি আরও বলেন, টেকনাফ ও উখিয়া অঞ্চলে মাদক চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। এলাকায় কোনো মাদক কারবারির আনাগোনা বা এ-সংক্রান্ত তথ্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে জানাতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা ইয়াবা ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে।


















