ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ন

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা : আপিল বিভাগে শুনানি ২৪ নভেম্বর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল আবেদনের চূড়ান্ত শুনানির জন্য আগামী ২৪ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (১৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চেম্বার জজ আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলার বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যায়। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এর শুনানি শুরু হয় এবং ১৬ মার্চ ২০২৫ রায়ে বিচারিক আদালতের সাজাই বহাল রাখা হয়। অর্থাৎ ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই বহাল থাকে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলো- বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার অপু, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, সদস্য মুনতাসির আল জেমি, সদস্য মোজাহিদুর রহমান, সদস্য হোসেন মোহাম্মদ তোহা, সদস্য এহতেশামুল রাব্বি তানিম, শামীম বিল্লাহ, মাজেদুর রহমান মাজেদ, খন্দকার তাবাক্কারুল ইসলাম তানভীর, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল জিসান, এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মিজানুর রহমান, শামছুল আরেফিন রাফাত, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ এবং এসএম মাহামুদ সেতু।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ৫ আসামি হলো- বুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, সদস্য আকাশ হোসেন ও মোয়াজ আবু হোরায়রা।

২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার রায়ে হাইকোর্ট আবরার হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে উল্লেখ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি আকস্মিক ছিল না; এর আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে আবরারকে হত্যা করা হয়। পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিতরা আপিল ও লিভ টু আপিল করেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ