নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি-এর শেয়ারে গত এক মাসে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি হয়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর ৬৫.৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭৯ টাকা হলেও অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানি কতৃপক্ষ।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বনিম্ন ৬৫.৫০ টাকা থেকে সর্বশেষ ৭৯ টাকায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ২০.৬ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৭৯.২০ টাকা। দরবৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। ৯ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারদর ৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮.১০ টাকায় দাঁড়ায় এবং ওই দিন প্রায় ১৭.৩ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়। এর আগের দিনও লেনদেন হয় প্রায় ১২.১ লাখ শেয়ার। ১০ সেপ্টেম্বর লেনদেনের পরিমাণ আরও বেড়ে প্রায় ২০.৬ লাখ শেয়ারে দাঁড়ায়।
সিএসইর ব্যাখ্যা তলব অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধির বিষয়টি নজরে আসার পর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের কাছে ব্যাখ্যা চায়। ৯ সেপ্টেম্বর সিএসই কোম্পানিটির কাছে শেয়ারদর ও লেনদেনের এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ জানতে চিঠি দেয়। জবাবে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল জানিয়েছে, শেয়ারের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা ঘটনা সম্পর্কে কোম্পানি অবগত নয়।
এক মাসে দরবৃদ্ধির চিত্র বাজার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬ আগস্ট প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৬৫.৫০ টাকা। এরপর ধীরে ধীরে শেয়ারটির দর বাড়তে থাকে। ২০ আগস্ট তা ৬৮.২০ টাকা, ২৫ আগস্ট ৬৯.৫০ টাকা এবং ২৭ আগস্ট ৬৯.৯০ টাকায় ওঠে। এরপর ৩০ আগস্ট ৭১.২০ টাকা এবং ৩১ আগস্ট ৭২.৪০ টাকায় পৌঁছায়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে দরবৃদ্ধির গতি আরও বাড়ে। ১ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দর ছিল ৭২.৯০ টাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ৭৪.৮০ টাকা, ৭ সেপ্টেম্বর ৭৬ টাকা এবং ৯ সেপ্টেম্বর ৭৮.১০ টাকায় উঠে যায়। সর্বশেষ ১৩ সেপ্টেম্বর দর দাঁড়িয়েছে ৭৯ টাকা।

আর্থিক ফলাফলে মিশ্র চিত্র শেয়ারদর যেখানে দ্রুত বেড়েছে, সেখানে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে পুরোপুরি একই ধরনের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে না।
কোম্পানির ২০২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ৬.৪৮ টাকা, যা ২০২৪ অর্থবছরে ছিল ৬.৬২ টাকা। অর্থাৎ ইপিএস সামান্য কমেছে। তবে ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ৪৩.৮৯ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ৪১.৭২ কোটি টাকার চেয়ে বেশি। ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে ২০২৪ অর্থবছরে ৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৫.১৪ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫.২২ টাকা। একই সময়ে সমন্বিত নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বা NOCFPS ৬.৭৩ টাকা থেকে কমে ২.২৪ টাকায় নেমেছে।
কোম্পানি জানিয়েছে, আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় নগদ প্রবাহে এই পতন হয়েছে। বাজারদর বনাম মৌলভিত্তি—নতুন প্রশ্ন প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ারে এক মাসে প্রায় ২০ শতাংশের বেশি দরবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে কোম্পানি নিজেই কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য থাকার কথা অস্বীকার করায় প্রশ্ন উঠছে—তাহলে সাম্প্রতিক এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে বাজারের কোন প্রত্যাশা কাজ করছে?
কোম্পানিটির ৫২ সপ্তাহের দরপরিসর বর্তমানে ৪৬.৬০ থেকে ৭৮.২০ টাকা হিসেবে দেখাচ্ছিল; পরবর্তী সময়ে শেয়ারটি ৭৯ টাকার কাছাকাছি উঠে নতুন উচ্চতার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বিজনেস আই/


















