ঢাকা, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ন

হরমুজের মুখ থেকে মার্কিন সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস বা বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন মানববিহীন সাবমেরিন বা পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন আটক করেছে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সামরিক অভিযানে পানির নিচে ব্যবহৃত ড্রোন কীভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে, তার একটি বিরল চিত্র সামনে এসেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে—আটক করা যানটি ডাইভ–এলডি (Dive-LD)। এটি তৈরি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল। ১৯ ফুট বা ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই ডুবোযানটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে পারে।

কোম্পানিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ–এলডি বিভিন্ন ধরনের মিশনে ব্যবহার করা যায়। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সহায়তা, সমুদ্রতলের মানচিত্র তৈরি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ডস নেভি বলেছে, ‘আমরা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে সন্ত্রাসী আমেরিকান সেনাবাহিনীর সবচেয়ে আধুনিক, বুদ্ধিমান ও মানববিহীন সাবমেরিনগুলোর একটি ফাঁদে ফেলেছি। এই ডুবোযানটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত।’ তবে ইরানের এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোন ‘এক দিনেরও বেশি সময় আগে বিকল হয়ে গিয়েছিল।’ পেন্টাগনের মুখপাত্র বলেন, ‘এটি চলমান অভিযানের সহায়তায় আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। ত্রুটিপূর্ণ ড্রোনটি ছিল পুরোনো একটি মডেল, যা কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেনি এবং এতে কোনো শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জাম ছিল না।’

তবে ইরান যে ড্রোনটি আটক করেছে বলে দাবি করেছে, পেন্টাগন তার সঙ্গে তাদের বক্তব্যের কোনো সম্পর্ক সরাসরি ব্যাখ্যা করেনি। অ্যান্ডুরিলের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি রয়টার্সের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মানববিহীন নৌযান ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে পানির নিচে চলাচলকারী এবং পানির ওপর চলাচলকারী উভয় ধরনের যান রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো বিশাল সমুদ্রাঞ্চল পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতিপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করার জন্য তুলনামূলক কম খরচের ব্যবস্থা তৈরি করা। একই সঙ্গে এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে নাবিকদের সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে না ফেলেও সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।

অ্যান্ডুরিলের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ডাইভ–এলডি সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত ঘাঁটিতে ফিরে না এসে কাজ করতে পারে। এটি সর্বোচ্চ ৬ হাজার মিটার বা ১৯ হাজার ৭০০ ফুট গভীরতায় ডুব দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপ ২০২৪ সালে জানিয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ–এলডির দাম প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার।

ইরানের দাবি সত্য হলে, হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের মানববিহীন পানির নিচের সামরিক ব্যবস্থার ব্যবহার এবং এর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ঘটনাটি সম্পর্কে ইরানের দাবি ও পেন্টাগনের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে এবং ঘটনাটির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ