যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত প্রশমিত হয়েছে। এর ফলে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৪২ শতাংশ কমেছে। ফলে এটি বর্তমানে ৮৯ দশমিক ৪৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৬ সেন্ট বা ০ দশমিক ৬৬ শতাংশ কমে ৮৩ দশমিক ৯০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
এর আগের কার্যদিবসে সংঘাতের আশঙ্কায় তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। সেদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা চলমান সংকটের মধ্যে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি ছিল। তবে এর আগে মঙ্গলবারে সাময়িক বিরতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছিল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এখনও বেশ উত্তপ্ত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কিছু সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে রাতের আঁধারে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। বুধবার রাতে শুরু হওয়া এই হামলার পর ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কয়েকটি প্রদেশ ও দ্বীপে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে বলে দেশটির গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। সব মিলিয়ে সংঘাত বাড়লেও সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকায় তেলের বাজারে তার নেতিবাচক প্রভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।



















