ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই। তার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, আদালতের এ সিদ্ধান্তের ফলে সরোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, এর আগে সরোয়ার আলমগীরের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নুরুল আমীন। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীরকে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন ও সংসদ অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞাও চাওয়া হয়। এ আবেদনের ওপর ২৭ ও ২৮ জুলাই শুনানি শেষে বুধবার আদেশ দেন আপিল বিভাগ।
ভোটের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করার পর ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নুরুল আমীন। শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বাতিল করে।
পরে নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সরোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন এবং রুল জারি করেন।

এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত আবেদন গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সরোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তখন ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। পরে আপিলের শুনানি শেষে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং আগের অন্তর্বর্তী আদেশ বহাল রাখেন।
সর্বশেষ আপিল বিভাগের আদেশে সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞার আবেদন কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় সংসদ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে আর কোনো বাধা থাকছে না।


















