ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে চাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে সান্তোসের ২-২ গোলে ড্রয়ের পর সান্তোসের ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের তীব্র ভর্ৎসনা করার গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন দলটির অধিনায়ক নেইমার। মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার ইউনিভার্সিদাদ সেন্ট্রালকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোপা সুদামেরিকানার শেষ ১৬ নিশ্চিত করার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
ড্রেসিংরুমে সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বোন্তেম্পোকে গালিগালাজ এবং তরুণ খেলোয়াড়দের অপমান করার খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে উ উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। সেই সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবল এবং ব্রাজিল জাতীয় দল থেকেও নিজের চূড়ান্ত বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন এই তারকা।
চাপেকোয়েন্সের সাথে ড্রয়ের পর সান্তোসের ড্রেসিংরুমে বোন্তেম্পো ও আত্মঘাতী গোল করা জোয়াও আনানিয়াসকে অপমান করার খবর ছড়িয়ে পড়ে স্প্যানিশ ও ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমে। তবে ম্যাচ শেষে মিশ্র অঞ্চলে নেইমার জানান, কিছু সাংবাদিক ইচ্ছাকৃতভাবে ক্লাবের পরিবেশ নষ্ট করতে মিথ্যা রটাচ্ছে।
নেইমার বলেন, “কিছু হয়নি, হলে আমি নিজেই বলতাম। বোন্তেম্পো আমার ছেলের মতো, ম্যাচের পরও সে আমার সাথে ছিল। কিছু মানুষ ল্যাপটপ আর মাইক্রোফোন হাতে পেয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।”
ড্র নিয়ে নিজের অসন্তোষের কথা স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাপেকোয়েন্সকে সম্মান করি, কিন্তু ওদের সাথে এভাবে পয়েন্ট হারানো উচিত হয়নি। আমি ওদের বলেছি আগামী বছর ওদের বিপক্ষে আবার দেখা হবে (ইঙ্গিতপূর্ণ কটাক্ষ)। দলের অধিনায়ক হিসেবে এভাবে কথা বলার পূর্ণ অধিকার আমার আছে।”

কোচ কুকা এবং ফরোয়ার্ড গাবিগোলও ড্রেসিংরুমের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিকে ফুটবলের স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে অধিনায়কের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে একপর্যায়ে জাতীয় দলে ফেরা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।নেইমার আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “জাতীয় দলে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস তৈরি করেছি, হলুদ জার্সির জন্য নিজের জীবন ও রক্ত দিয়েছি, সব সময় লড়াই করেছি। কিন্তু এখন আর সেই অধ্যায় ফেরত আনতে চাই না।”
কার্লো আনচেলত্তির অধীনে ২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর জাতীয় দলের হয়ে আর না খেলার সিদ্ধান্ত নেন নেইমার।


















