ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ পূর্বাহ্ন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ, জানা যাবে দুইভাবে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হবে আজ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুই পদ্ধতিতে ফলাফল জানা যাবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবেন।

জানা যায়, চলতি বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ পাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বাকি ২০ শতাংশ পাবে বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’-এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।

সারাদেশে একযোগে এই বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা-রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

চলতি বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে পাঁচ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন)।

বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ২ উপায়ে নিজেদের রেজাল্ট ও মার্কশিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

অনলাইন পদ্ধতি: অনলাইনে মার্কশিটসহ রেজাল্ট দেখার অফিশিয়াল মাধ্যম হলো আইপিইএমআইএস পোর্টাল (IPEMIS portal login)। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (dpe gov bd scholarship result) অথবা সরাসরি (ipemis.dpe.gov.bd, ipemis.dpe.gov.bd) লিংকে প্রবেশ করে রোল নম্বর, জেলা ও উপজেলার তথ্য দিয়ে সহজেই ফলাফল দেখতে পাবেন।

মোবাইল এসএমএস পদ্ধতি: অনলাইনের পাশাপাশি মোবাইল মেসেজের মাধ্যমেও ফলাফল জানা যাবে। টেলিটক মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এসএমএস-এর কোড ও নিয়মটি দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করবে অধিদপ্তর।

বৃত্তি পাবে কতজন—

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার মোট বৃত্তির সংখ্যা ৮২ হাজার ৫০০টি। অর্থাৎ, মেধাক্রম ও জেলা-উপজেলাভিত্তিক হিসাবে এ সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তির সংখ্যা ৬৬ হাজার ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী- বৃত্তির অনুপাত হবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রের ৮ঃ১ (প্রতি ৮ জনে একজন) এবং বেসরকারির ক্ষেত্রে ৫.৫ঃ১ (প্রতি সাড়ে ৫ জনে একজন)।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ জন। বর্তমান বৃত্তির হার অনুযায়ী- ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ৩০০ টাকা এবং বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে।

অপরদিকে, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা ও বার্ষিক এককালীন ২২৫ টাকা পাবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণী থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী দুই বছর এ আর্থিক সুবিধা পাবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ