ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ন

দেড় বছর পর আশুলিয়ায় জনি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেফতার ২

ঢাকা জেলার আশুলিয়ার মধুপুরে পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া হাসিবুল ইসলাম জনি (২১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার দীর্ঘ দেড় বছর পর মামলার অন্যতম দুই আসামি মো. শাহ জাল সরকার ও মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে শাহ জাল সরকার আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ (পিপিএম-সেবা)।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ রাত আনুমানিক আটটার দিকে আশুলিয়া থানার মধুপুর উত্তরপাড়া এলাকায় রংপুর জেলার বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের ছেলে হাসিবুল ইসলাম জনিকে অজ্ঞাতনামা আসামিরা পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় নাজমুল হোসেনের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর পুকুরে অর্ধগলিত লাশ ভেসে উঠলে আশুলিয়া থানা পুলিশ তা উদ্ধার করে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পিবিআই-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে পিবিআই ঢাকা জেলা স্বউদ্যোগে তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসেনকে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা ও জেলা পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে তদন্তকারী দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৮ জুন ২০২৬ তারিখে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজবাড়ী জেলার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গ্রেফতার হওয়া অপর আসামি ধামরাইয়ের মো. শাহ জাল সরকারের (২৮) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাইফুলকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

আদালতে দেওয়া শাহ জাল সরকারের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও পিবিআই-এর তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, মূলত মাদক ব্যবসার বিরোধ ও পূর্বক্ষোভের জের ধরেই জনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন জনি ও তাঁর দুই বন্ধু সোহাগ ও রানা খান ঘটনাস্থলে মাদক সেবন ও বিক্রি করছিলেন। এই নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে আসামিরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জনির দুই বন্ধু পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও জনিকে আসামিরা ধরে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি পিটিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে লাশ পুকুরে ডুবিয়ে দেয়।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এন. মোর্শেদ বলেন, সম্পূর্ণ ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই পিবিআই-এর ক্রাইম সিন টিম ছায়া তদন্ত শুরু করেছিল। প্রায় দেড় বছর পর নিরলস প্রচেষ্টায় মূল আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এই গ্রেফতারে স্থানীয় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ