ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু আজ

বিশ্ব মুসলিমের মহামিলনমেলা পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইতোমধ্যে মিনার তাঁবুর নগরীতে সমবেত হয়েছেন। এর আগে, গত রবিবার (২৪ মে) এশার নামাজের পর থেকেই হাজিরা ধাপে ধাপে মিনার উদ্দেশে রওনা হতে শুরু করেন। ইহরামের সাদা পোশাকে আল্লাহর দরবারে হাজিদের আত্মসমর্পণের এক অনন্য ও আবেগঘন দৃশ্যের সৃষ্টি হয়েছে পুরো হজ এলাকায়।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ৮ জিলহজ হাজিরা মিনায় অবস্থান করবেন। সেখানে অবস্থানকালে তারা ফজর থেকে শুরু করে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন এবং মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। মিনায় রাতযাপনের পর আগামীকাল ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) তারা হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন আদায়ের জন্য আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের ঐতিহাসিক খুতবা প্রদান করবেন মসজিদে নববীর প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুল রহমান আল-হুদাইফি। খুতবা শোনার পর হাজিরা সেখানে একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে দোয়া ও মোনাজাতে মগ্ন থাকবেন।

সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করার পর খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাবেন তারা। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগেই হাজিরা পুনরায় মিনায় ফিরবেন এবং বড় জামরায় কঙ্কর (পাথর) নিক্ষেপ করবেন। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মাধ্যমে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। পরবর্তী ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে বাকি নিয়মকানুন শেষ করে সূর্যাস্তের আগেই হাজিরা মিনা ত্যাগ করবেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করছেন। বাংলাদেশ থেকে এবার প্রায় সাড়ে ৭৮ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরবে গিয়েছেন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩২০ জন মুসল্লি হজ পালন করেছিলেন, যার মধ্যে সৌদি আরবের বাইরে থেকে এসেছিলেন ১৫ লাখের বেশি মানুষ। এবার হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই সেই রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার শক্তিশালী আভাস মিলেছে।

পবিত্র হজ নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল করতে সৌদি আরব প্রশাসন ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল মনসুর বিন নাসের আল-ফায়েজ পবিত্র স্থানগুলোতে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি ও কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, আল্লাহর মেহমানদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ইবাদত নিশ্চিত করতে সব বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সেবামূলক সংস্থার মধ্যে চমৎকার সমন্বয় থাকার কারণে এবারের হজ আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ