ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ন

বিশেষ বার্তা নিয়ে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আলোচনায় অগ্রগতি আনতে বিশেষ বার্তা নিয়ে তেহরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যোগাযোগে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ইসলামাবাদ।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। প্রতিনিধিদলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও রয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং পরবর্তী দফার আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা।

তেহরানে পৌঁছানোর পর পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতামূলক ভূমিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তেহরান ও ইসলামাবাদের অভিন্ন অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে, সেখানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের দফার আলোচনা বড় ধরনের অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হলেও উভয় পক্ষ এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে।

এই সফরের আগে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও তেহরান সফর করেন। সেখানে তিনি ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এবং সম্ভাব্য নতুন আলোচনার কাঠামো তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার পেছনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো বিষয়গুলো বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা এখন “চূড়ান্ত পর্যায়ে” রয়েছে। তবে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসিম মুনিরের এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সফর নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন এক সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছানোয় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকে এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তথ্যসূত্র : তাস

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ