ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন

কুমিল্লার তনু হত্যা: পোশাক থেকে মিলল আরও একজনের ডিএনএ

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। ফলে ডিএনএ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত চারজনের নমুনা শনাক্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এলো।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম সোমবার (১৮ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডির কাছে তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক মাস আগে সেখান থেকে জানানো হয়, তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরও একজনের রক্তের অস্তিত্বও মিলেছে। এ নিয়ে সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়াল। তবে এটি পুরোপুরি নতুন তথ্য নয়। ২০১৭ সালে তিনজনের তথ্য সামনে এসেছিল, এখন আরেকজনের নমুনার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস এলাকার কাছে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

ঘটনার পরদিন তনুর বাবা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করতে পারেনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। পরে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ডিএনএ পরীক্ষা।

২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার তথ্য জানায়। পরে তনুর মায়ের সন্দেহের ভিত্তিতে তিনজনকে ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সম্প্রতি মামলাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান গ্রেপ্তারের পর। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরদিন আদালতের মাধ্যমে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মাদারীপুরে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধারমাদারীপুরে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধার
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে হাফিজুর রহমানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই নমুনা তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে গতকাল রবিবার পর্যন্ত পরীক্ষার ফল পাওয়া যায়নি।

হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ