পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য বিদ্যমান ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ বাধ্যবাধকতায় বিশেষ ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ করে পুনর্গঠিত পর্ষদ থাকা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম আর আগের মতো কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে না।
মঙ্গলবার, ১২ মে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদের ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হবে। ফলে এসব কোম্পানির জন্য মূলধন সংগ্রহের নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর দেখা যায়, অনেক উদ্যোক্তা উচ্চ দামে নিজেদের শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে কোম্পানির পর্ষদ থেকে সরে যান। এতে কোম্পানির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা কার্যত শেষ হয়ে যেত। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে এবং উদ্যোক্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে বিএসইসি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।
এই নীতির ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও সময়ের সঙ্গে এর কিছু নেতিবাচক দিকও সামনে আসে। বিশেষ করে দুর্বল ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে। অনেক প্রতিষ্ঠানের পর্ষদ অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার কারণে ভেঙে দেওয়া হলেও নতুন পরিচালকদের পক্ষে অল্প সময়ে বাজার থেকে ৩০ শতাংশ শেয়ার কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে এসব কোম্পানি রাইট বা বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে মূলধন বাড়াতে পারেনি।
মূলধনের সংকটে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় সম্ভাবনাময় অনেক কোম্পানিও ধীরে ধীরে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বছরের পর বছর লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিএসইসির নতুন সিদ্ধান্তে অন্তত তিনটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমত, পুনর্গঠিত পর্ষদ থাকা কোম্পানিগুলো এখন রাইট শেয়ার বা বন্ডের মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। এতে তাদের উৎপাদন ও ব্যবসা পুনরায় সচল করার সুযোগ তৈরি হবে।
দ্বিতীয়ত, নতুন বিনিয়োগকারী বা বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জন্য দুর্বল কোম্পানির দায়িত্ব নেওয়া সহজ হবে। এতদিন ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতার কারণে অনেকেই আগ্রহ হারাতেন। নতুন সিদ্ধান্তে সেই বাধা অনেকটাই কমে গেল।
তৃতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে লোকসানি বা বন্ধ কোম্পানিতে বিনিয়োগ আটকে থাকা সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্যও আশার আলো তৈরি হয়েছে। কোম্পানিগুলো নতুন মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসায় ফিরতে পারলে শেয়ারের মূল্য ও ডিভিডেন্ড—উভয়ের সম্ভাবনাই বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


















