ঢাকা, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ন

দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় কমিশন: ফারজানা লালারুখ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ফারজানা লালারুখ জানিয়েছেন, দেশের পুঁজিবাজারে কোনো অস্থায়ী বা অসম্পূর্ণ ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সুফল নিশ্চিত করতে একটি সুপরিকল্পিত ও শক্তিশালী ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় কমিশন। কোনো ধরনের জোড়াতালি দিয়ে বাজার টিকিয়ে রাখার নীতিতে বর্তমান কমিশন বিশ্বাসী নয়, বরং প্রতিটি স্তম্ভ বা পিলারকে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে তবেই এই নতুন বাজারকে উন্মুক্ত করা হবে।

রবিবার (১০ মে) সকালে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটরিয়ামে ‘কমোডিটি এক্সচেঞ্জ: সম্ভাবনা, কাঠামো ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিএমজেএফ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) যৌথ উদ্যোগে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে সিএসইর চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি মনির হোসেন।

ফারজানা লালারুখ জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্যাপিটাল মার্কেটকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, তবে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি কতটুকু তা নিয়ে গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। দেশের পুঁজিবাজারের মূলত তিনটি প্রধান অংশ— ইকুইটি, বন্ড এবং কমোডিটি। বর্তমানে ইকুইটি মার্কেট বা সাধারণ শেয়ার বাজার এক জায়গায় স্থবির হয়ে আছে এবং গত দুই বছর ধরে আইপিও প্রবাহে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বন্ড মার্কেট কিছুটা আশার আলো দেখালেও ডেরিভেটিভ তথা কমোডিটি মার্কেটকে এখনো পুরোপুরিভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এই শূন্যতা পূরণে সিএসইর সাথে কাজ করছে কমিশন। এরই মধ্যে ২০২৫ সালে সিএসইর কমোডিটি ডেরিভেটিভ প্রবিধানমালা কমিশন মিটিংয়ের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে এবং যাবতীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল সিএসই-র কারিগরি প্রস্তুতি ও সঠিক পণ্য (প্রোডাক্ট) নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে কমিশন।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে কমিশনার জানান, এই বাজারের দুটি বড় দিক হলো ‘প্রাইস ডিসকভারি’ বা পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং ‘হেজিং’ বা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। ইকুইটি মার্কেটের চেয়ে এর সেটেলমেন্ট বা নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই এই বাজার চালুর আগে কমিশন অত্যন্ত সতর্ক। বিশ্বের অন্যান্য দেশে মিউচুয়াল ফান্ড সফল হলেও আমাদের দেশে এই খাতটি সফলভাবে কাজ করতে পারছে না। কমোডিটি এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে যেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্যই সময় নিয়ে সব ধরনের নিয়ম-নীতি ও স্টেকহোল্ডারদের প্রস্তুতি যাচাই করা হচ্ছে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রস্তুতি ছাড়া কোনো কিছু চালু করলে পরবর্তীতে যদি সমস্যা তৈরি হয়, তবে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই তখন প্রশ্ন তুলবেন যে কেন পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ছাড়া এটি আনা হলো।

কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চা, পাট এবং অন্যান্য কৃষি পণ্যকে এই ডেরিভেটিভ মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত করা সবচেয়ে জরুরি। এতে সাধারণ কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ