ঢাকা, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ন

দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে শুরু হচ্ছে ইলিশ ধরা

পটুয়াখালী জেলার তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবেবুধবার (২৯ এপ্রিল) মধ্যরাতে। দীর্ঘ ৬০ দিনের বিরতির পর নদীতে নামার অপেক্ষায় আছে প্রায় ২০ হাজার জেলে। এরইমধ্যে তাদের নৌকা মেরামত ও জাল গোছানোর কাজ প্রায় শেষ।

দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে ও জাটকা সংরক্ষণে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। বুধবার রাত ১২টার পর থেকেই জেলেরা পুনরায় মাছ শিকারে নামতে পারবেন।

সরেজমিন পটুয়াখালীর বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশে কেউ ছেঁড়া জাল সারছেন, কেউ ট্রলারে রং করছেন, আবার কেউ নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন।

বাউফল ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী তীরের জেলে রইস উদ্দিন বলেন, দুই মাস নদীতে নামতে পারি নাই। অনেক কষ্ট হয়েছে সংসার চালাতে। আশা করছি রাত ১২টার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ও অন্যান্য মাছ পাব। মাছ বেঁচে দেনা শোধ করতে পারব।

তবে জেলে কবির মৃধা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে চাল দেওয়া হলেও নগদ অর্থের অভাবে কিস্তি ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তাদের দাবি, চালের পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহযোগিতা দিলে জেলেদের জন্য আরও সুবিধা হতো।

জেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গত দুই মাস তেঁতুলিয়া নদীতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। প্রতিদিন যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কয়েক লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যার সুফল জেলেরা এখন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, জেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮০ হাজার, যার মধ্যে একটি বড় অংশ এই অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জন্য ৪০ কেজি হারে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে নিষেধাজ্ঞা পালিত হওয়ায় নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেরা এখন নিয়ম মেনে জাল ফেললে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাবেন এবং গত দুই মাসের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ