দেশের পুঁজিবাজারে সংকট যেন কোনভাবেই কাটছে না। টানা দুই বছর পুঁজিবাজারে নেই কোন প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও)। এর ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসই এক্স এ যুক্ত হচ্ছে না নতুন কোম্পানি।
ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল পরযন্ত ডিএসইর মূল বোর্ড বা এসএমই বোর্ডে নতুন কোন সিকিউরিটিজ বা শেয়ার তালিকাভুক্ত না হওয়ায় ডিএসইএক্স বা ডিএসইএসমইএক্সে যুক্ত হয়নি নতুন কোম্পানি। এর ফলে এপ্রিল মাসে ডিএসইএক্স বা ডিএসইএসএমইএক্স এ নতুন কোন শেয়ার সংযোজন হবে না।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ আইপিও অনুমোদন হয়েছে দুই বছর আগে। ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহের জন্য আইপিও অনুমোদন পায় টেকনো ড্রাগস। আর ফিক্সড প্রাইস পদ্ধিতে সর্বশেষ ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর আইপিও পায় এনআরবি ব্যাংক। এরপর আর কোনো কোম্পানির আইপিও অনুমোদন হয়নি।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তথ্য অনুযায়ী, পুঁজিবাজার সংস্কারের অংশ হিসাবে পাবলিক অফার রুলস-২০১৫ বাতিল করে পাবলিক অফার অব ইক্যুয়িটি সিকিউরিটিজ রুলস,২০২৫ এর খসড়া অনুমোদন করেছে বিএসইসি। পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্প্ন্ন কোম্পানি তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে কমিশন দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে এবং নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তবে নতুন কোম্পানি কবে বাজারে আসবে এ নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

জানা গেছে,গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর থেকে নতুন আইপিও বিধিমালা কার্যকর হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করে কোনো কোম্পানি প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার আবেদন করেনি।
সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, অর্থবছর শেষ হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে কোম্পানিগুলো আইপিও প্রস্তাব জমা দিতে পারবে। সে হিসেবে ক্যালেন্ডার বছর অনুসরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ২৮ এপ্রিল।
একটি অর্থবছর শেষ হওয়ার পর আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগে। এরপর তা নিরীক্ষা ও পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন পেতে আরও সময় প্রয়োজন হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সাধারণত দুই মাসের কম সময় লাগে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক মাসের মধ্যে নিরীক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। ফলে ২০২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দিয়ে আইপিও আনতে হলে কোম্পানিগুলোকে আরও অন্তত পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
বিজনেস আই/

















