ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ন

জেদ্দায় সউদী যুবরাজ-শেহবাজ বৈঠক: যেসব বিষয়ে আলোচনা হলো

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সউদী আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে বৈঠক করেছেন। গতকাল বুধবার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে সউদী আরবে সরকারি সফরে পৌঁছানোর পর জেদ্দায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে পাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার উপস্থিত ছিলেন।

ইশহাক দার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় জানান যে, এই বৈঠকটি আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব এবং একটি শক্তিশালী পাকিস্তান-সউদী আরব অংশীদারিত্বের অভিন্ন লক্ষ্য দ্বারা চিহ্নিত। তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের গভীর শিকড়যুক্ত সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন, যা বিশ্বাস, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বৈঠকে সকল খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সউদী আরব পাকিস্তানিদের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে এবং এই ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আগামী প্রজন্মের জন্য আরও শক্তিশালী করতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে, পাক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি পোস্টে জানানো হয় যে, জেদ্দায় পৌঁছানোর পর দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশাল বিন আবদুল আজিজ, সউদী আরবে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আহমেদ ফারুক এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত সউদী রাষ্ট্রদূত নওয়াফ বিন সাইদ আল-মালকি অভ্যর্থনা জানান।

পাকিস্তানের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেদ্দা সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সউদী আরবের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করবেন। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির ওপর মতবিনিময় এই সফরের মূল লক্ষ্য। প্রতিনিধিদলে তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এফও) জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সউদী আরব, কাতার এবং তুরস্ক সফর করবেন। সউদী ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে হলেও তুরস্কে তিনি ‘পঞ্চম আন্টালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে’ অংশগ্রহণ করবেন এবং বিশ্বনেতাদের প্যানেলে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরবেন। সেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের সঙ্গেও তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ চলমান বৈরিতার মাঝে সউদী আরবের “অসামান্য ধৈর্যের” প্রশংসা করেছিলেন এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দিয়েছিলেন।

এর আগে ৯ মার্চ এক বৈঠকেও পাক প্রধানমন্ত্রী সউদী আরবের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছিলেন এবং দুই নেতা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য একত্রে কাজ করতে সম্মত হয়েছিলেন।

পাকিস্তান ও সউদী আরবের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের কৌশলগত সামরিক এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। সম্প্রতি পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, সউদী আরব পাকিস্তানকে অতিরিক্ত ৩ বিলিয়ন ডলার আমানত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং বর্তমান ৫ বিলিয়ন ডলারের সুবিধার মেয়াদ আরও তিন বছর বাড়িয়েছে। এই আমানতটি এখন থেকে আর বার্ষিক নবায়নের প্রয়োজন হবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদী হিসেবে বিবেচিত হবে।

সামরিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল সউদী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সউদী আরবে একটি সামরিক বাহিনী এবং যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে উভয় দেশ একটি “কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি” স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে বলা হয়েছে যে যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।

সূত্র: ডন

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ