ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

নাফা শরতকালীন নাড়ু উৎসব উদযাপন

চন্দ্রখোলা কালিমন্দির প্রাংগনে নবাবগঞ্জ ললিতকলা একাডেমি (নাফা) শনিবার, ১১ অক্টোবর বিকাল ৩টায় আয়োজন করে শরতকালীন নাড়ু উৎসবের। এই উৎসবে  বিভিন্ন গ্রামের বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ অংশগ্রহন করেন এবং পুরস্কার জিতে নেন।

নাড়ুর পরিচ্ছন্নতা, স্বাদ, ডেকোরেশন রেসিপি বিশেষত্ব বিচার করে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় জন কে নির্বাচিত করা হয়।।দেশীয় শেফ, ফুড ব্লগার, নাড়ু তৈরি এক্সপার্ট বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, অনলাইনে যুক্ত ছিলেন, ভারতীয় আন্তর্জাতিক শেফ প্রফেসর প্রিয়দর্শীনি দাস। তার চোখে সেরা বিশেষ নাড়ুর সম্মাননা পেয়েছে মুড়ি গুড়ার নাড়ু, জ্যোতস্না রাজবংশী এই বিশেষ সম্মাননা পান। এই উতসবে * ১ম- দেবত্রী পাল, তিল নারকেলের নাড়ু *২য়- পুষ্প দাস, রসকড়া নাড়ু ও নাড়ুর কেক। *৩য়- ইলা হালদার, হরেক রকম নাড়ু হোন। ৯ জন অংশ গ্রহন করে অংশগ্রহনকারী প্রত্যেককে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।

বিশ্ব কন্যা শিশু দিবসে এই উৎসব উদ্বোধন করেন নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ইয়াসমিন আক্তার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, নবাবগঞ্জ উপজেলা। তিনি নাড়ু পরিদর্শন করেন ও স্বাদ বিচার করেন। বিচারক হিসেবে ছিলেন গত বার নাড়ু উৎসবের প্রথম বিজয়ী শিক্ষিকা পুষ্প মন্ডল, নারী উদ্যোক্তা শাহরিয়া সুমা। প্রতিযোগিতারা জানান নাড়ু উৎসব একটি ইউনিক ধারণা ঘরে বানানো নাড়ু নিয়ে এত আনন্দ দেখে তারা আনন্দিত এবং দেশীয় সংস্কৃতি এ চর্চা আমাদের সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদী তারা। নাফা বাংলাদেশ এ নাড়ু উৎসব শুরু করেছে সেজন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা।

বাংলাদেশে নাড়ু উৎসবের প্রবর্তক, নাফার সাধারণ সম্পাদক সায়মা রহমান তুলি বলেন, আমাদের অঞ্চলে উৎসবমুখর দিনগুলিতে আমরা নাড়ু খেয়ে বাড়ি বাড়ি মিষ্টি মুখ করি। গ্রামের দক্ষ হাতের এই নাড়ুর রয়েছে নানা রেসিপি, নাফা বাংলাদেশ এর মাটির সংস্কৃতিকে সারা বিশ্বের কাছে পৌছে দিতে চায় তার ই অংশ হিসেবে আমরা নাড়ু উৎসব শুরু করি। ব্যাপক সাড়া থাকে প্রতিবছর। ছোট ছোট বিষয়ে আনন্দ ও খুশিতে মেতে উঠা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভাল এবং নাড়ু উৎসব এর মত অনুষ্ঠান সম্প্রীতি বন্ধন দৃঢ় করে।

নাফার শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নাড়ু উৎসব থিম ভিত্তিক ফ্যাশন শো, শরতের চিত্র প্রদর্শনী, সংগীত, নৃত্য। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, এডভোকেট আবুল কালাম খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক, নবাবগঞ্জ উপজেলা, বিএনপি। বিশেষ অতিথি , এরশাদ আল মামুন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি স্বপন কুমার তালুকদার, সভাপতি চন্দ্রখোলা কালি মন্দির পরিচালনা কমিটি শ্যামল কুমার মজুমদার, সহকারী শিক্ষক, চন্দ্রখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হেলাল উদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ শোল্লা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নবাবগঞ্জ ঢাকা মো শাহ আলম, প্রধান শিক্ষক, কোকিলপ্যারী উচ্চবিদ্যালয় মো. আজিজুল হক, সহকারী প্রধান শিক্ষক নবাবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাফার ব্যবস্থাপনা পরিচালক লতিফা রহমান লতা। সার্বিক তত্তাবধায়নে শফিউর রহমান তোতা অনুষ্ঠান পরিকল্পনা, পরিচালনা, উপস্থাপনায় সায়মা রহমান তুলি সাধারণ সম্পাদক, নাফা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে নাফা নবাবগঞ্জের মানুষ কে নানা রকম চমক দেখিয়ে আসছে, বিশেষ ভুমিকা রাখছে সংস্কৃতি ক্ষেত্রে। এলাকার শিশু কিশোরদের মেধার বিকাশে এ প্রতিষ্ঠান একটি আইডল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। নাফার শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

শিল্পীদের নাম : মো.সেলিম ( শিক্ষক সংগীত) , অমুল্য দাস ( শিক্ষক তবলা), অংগনা, ঐশী, এঞ্জেল, শ্রুতি, বাধন, প্রজ্ঞান, তুষিকা, শ্রেষ্ঠা, অন্বেষা, প্রেয়সী, গীতশ্রী, আবৃত্তি, দেবি, সামিরা, সাইফান, সাইয়োরি, রুদ্র, সদ্য, তাসফিয়া, আরিয়ান, জান্নাতুন, নীপা, মিষ্টি, অঞ্জলিকা, আদৃতা, দিয়া, রাঈ, অনুরাধা, আংকিতা, উষসি, শ্রেয়সি, সিথি, প্রিয়াংশি, বাধন, আশা, কর্ন, শ্রাবন, সান্নিধ্যা, মো ফারুক, রুখসানা, জয়, আনোয়ার।

সেতারা নাফার সভাপতি শফিউর রহমান তোতা জানান, আগামী বছর এই উৎসব ঢাকায় করার ইচ্ছা আছে যেখানে গ্রামের নারীরা তাদের হাতের তৈরি নাড়ু তুলে ধরতে পারবেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ