ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১:০৪ অপরাহ্ন

১৩ বছর পর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন পপগুরু আজম খান

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখায় স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলা পপসংগীতের কিংবদন্তি আজম খান। তার মৃত্যুর সাড়ে ১৩ বছর পর এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এতদিন পর হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে উচ্ছ্বসিত তার পরিবার।

আজম খানের মেয়ে অরণী খান প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “খবরটি শোনার পর পরিবারের সবাই খুব খুশি। তবে একটাই আক্ষেপ, আব্বা জীবিত অবস্থায় এই সম্মান পেলে আনন্দটা দ্বিগুণ হতো। অনেক আগেই এই স্বীকৃতি পাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু সেটি হয়নি। দেরিতে হলেও রাষ্ট্র তাকে সম্মান দিচ্ছে, এটুকুই স্বস্তি।”

তিনি আরও বলেন, আজম খান কখনোই পুরস্কারের পেছনে ছুটতেন না। মানুষের ভালোবাসাই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অরণী স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আব্বাকে জিজ্ঞাসা করতাম, কেন তিনি কোনো অ্যাওয়ার্ড নিতে যান না? উত্তরে বলতেন, ‘মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অ্যাওয়ার্ড। কয়েকটা ক্রেস্ট এনে ঘরে সাজিয়ে রাখার চেয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়াটাই বড় পুরস্কার।’ আব্বাই ঠিক ছিলেন। এত বছর পরও মানুষ তাকে ভালোবাসে, মনে রাখে, এটাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন।”

আজম খান শুধু সংগীত জগতেই নয়, মুক্তিযুদ্ধেরও এক সাহসী সৈনিক। ১৯৭১ সালে তিনি সরাসরি গেরিলা যুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধশেষে বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তোলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। তার ক্যারিয়ারে ১৭টির বেশি অ্যালবাম রয়েছে। ২০১১ সালের ৫ জুন বাংলা সংগীতের এই মহাতারকা চিরবিদায় নেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হলেন তিনি, তবে সেই সম্মান তার সামনে তুলে দেওয়ার সুযোগ আর রইল না। তবুও পরিবারের সদস্যদের বিশ্বাস, আজম খানের গান ও আদর্শ চিরকাল বেঁচে থাকবে মানুষের হৃদয়ে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ