ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন

সিঙ্গাপুরকে হটিয়ে স্টারলিংকের ট্রানজিট হাব বাংলাদেশ

বাংলাদেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংকের গ্রাউন্ড স্টেশন এবং দক্ষিণ এশীয় ট্রানজিট হাব নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে বাংলাদেশ এখন থেকে স্টারলিংকের দক্ষিণ এশীয় হাব বা প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে, যা এতদিন সিঙ্গাপুরের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের (পিটিডি) নীতিগত অনুমোদনের পর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) স্টারলিংককে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ সরবরাহে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। স্টারলিংক বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অপরিশোধিত (আনফিল্টারড) আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ পৌঁছে দিতে পারবে।

এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম, যখন কোনো স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে অন্য দেশে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রাফিক পরিবহনের অনুমতি দেওয়া হলো। এবার গাজীপুরে একটি বৃহত্তম গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই স্টেশনের মাধ্যমে ভুটানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে দ্রুত এবং স্বল্প খরচে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে।

তিন বছরের চুক্তির আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) স্টারলিংকের প্রধান ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। তবে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করতে না পারলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস ও ফাইবার@হোম থেকেও ব্যান্ডউইথ নিতে পারবে স্টারলিংক।

বিটিআরসি জানিয়েছে, বিদেশে রপ্তানিকৃত আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বাংলাদেশের সরকারি ফায়ারওয়াল, ফিল্টারিং বা নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় থাকবে না। ফলে বিদেশি গ্রাহকেরা সরাসরি আনফিল্টারড ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুতগতির, কম ল্যাটেন্সির ও নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের সংযোগের চাহিদা বেশি।

তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক ট্রানজিট নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট অবকাঠামো সম্পূর্ণ পৃথক থাকবে। ফলে এই আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ দেশের কোনো নাগরিক বা বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি পর্যটকের ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা আগের মতোই বিদ্যমান সরকারি নীতিমালা, ফিল্টারিং ও নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

বিটিআরসির নির্ধারিত প্রযুক্তিগত শর্ত পূরণ করে স্টারলিংক ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি নথি ও মনিটরিং-সংক্রান্ত তথ্য কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ট্রানজিট ব্যবসায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি দেশের টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর আন্তর্জাতিক ব্যবহার, বৈদেশিক আয় এবং ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ