পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ (বিপিএম) ও ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’ (পিপিএম) থেকে ২০১৮ সালের জন্য ভূষিত ১০৩ কর্মকর্তার পদক বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পদক বাতিলের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাও ফেরত নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে এসব পদক দেওয়া হয়েছিল। তবে এ পদক প্রদানে রাষ্ট্রীয় সম্মানের অবমূল্যায়ন হয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ সদর দপ্তর।
২০১৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ঢালাওভাবে ৬৪ জেলার এসপি, ডিআইজি এবং পুলিশ কমিশনারসহ ১০৩ কর্মকর্তাকে পদক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব পদক বাতিলের প্রস্তাব পাঠানো হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে।
পদক বাতিলের কারণ
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিতর্কিত নির্বাচনে রাতের অন্ধকারে ব্যালট বাক্স পূরণসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এ প্রেক্ষিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূষিত করা পদক রাষ্ট্রীয় মানদণ্ড ক্ষুণ্ন করেছে।
পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম
পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন:

- সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
- সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন
- সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া
- ডিএমপির সাবেক কমিশনার শফিকুল ইসলাম
- বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম
- অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলামসহ ৬৪ জেলার তৎকালীন পুলিশ সুপাররা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফাইল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অনুমোদন পেলে পদক ও আর্থিক সুবিধা প্রত্যাহার কার্যক্রম শুরু হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) মো. কামরুল আহসান মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে আইজিপি বাহারুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
১৯৭৬ সাল থেকে পুলিশ সদস্যদের এ পদক দেওয়া শুরু হয়। তবে ঢালাওভাবে পদক বাতিলের ঘটনা এই প্রথম।


















