ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

অর্থ সংকটে কারখানা পুরোপুরি সচল করতে পারছে না জুট স্পিনার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

আর্থিক দৈন্যদশাসহ নানা সংকটের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জুট স্পিনার্স লিমিটেড। যে কারণে পাট খাতের কোম্পানিটি লোকসানের বেড়াজাল থেকে বের হতে পারছে না। কবে নাগাদ লোকসানের এই বেড়াজাল থেকে বের হবে, সেব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই প্রতিষ্ঠানটির। তবে লোকসান থেকে বের হতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা।

জুট স্পিনার্স সূ্ত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে পুনঃরায় কারখানার উৎপাদন চালু হয়। কিন্তু অর্থনৈতিক ও শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি অধিকাংশ মেশিনারিজের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সুতা উৎপাদন করতে পারছে না জুট স্পিনার্স।

সূত্রটি জানায়, খুলনার শিরমনিতে অবস্থিত জুট স্পিনার্সের কারখানাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বেশিরভাগ যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরিচালনা পর্ষদের আর্থিক সংকটের কারণে নতুন করে যন্ত্রপাতি কারখানায় সংযোজন করতে পারছে না। এমনকি অকেজো হয়ে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতি মেরামতও করতে পারছে না তারা। যেকারণে যেসব যন্ত্রপাতি ভালো রয়েছে সেগুলো দিয়ে কোনো রকমে কারখানায় সুতা উৎপাদনে দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিট চালু রয়েছে। এই ইউনিটে মোট সাড়ে তিনশো শ্রমিক কাজ করছে। কারখানার দুটি ইউনিট চালু করতে সব মেশিনারিজের সক্ষমতার পাশাপাশি আটশো শ্রমিক লাগবে।

সূত্রটি আরও জানায়, কবে নাগাদ সকল সংকট কাটিয়ে কারখানা পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনে যাবে, সে ব্যাপারে কোনো দিক নির্দেশনা নেই জুট স্পিনার্সের। শতভাগ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে বিদেশি বায়ার হাতে গোনা দুই থেকে তিন জন। যা উৎপাদন করে তার বেশিরভাগ সুতাই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে কোনো রকমে টিকে আছে প্রতিষ্ঠানটি।

জুট স্পিনার্সের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) তোফাজ্জল হোসেইন ভুঁইয়া বিজনেস আই বাংলাদেশকে জানান, পরিচালকদের হাতে টাকা নেই। যেকারণে কারখানা পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মুনাফায় ফিরতে ম্যানেজমেন্ট সুতার পাশাপাশি নতুন পণ্য চটের ছালা উৎপাদন করার কথা ভাবছে। তবে কবে, কখন চটের ছালা উৎপাদন করা হবে এবং কখন কারখানায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন শুরু সেসব ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

এদিকে জুট স্পিনার্স দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান ২৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। কোম্পানিটি গত ১২ বছর শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দেয়নি। সর্বশেষ হিসাব বছরে (৩০ জুন ২০২৪) জুট স্পিনার্সের লোকসান হয়েছে ৬৪ টাকা ৪৫ পয়সা। কোম্পানির সর্বশেষ সমাপনী শেয়ার দর ছিল ২৬১ টাকা ৬০ পয়সা।

উল্লেখ্য, জুট স্পিনার্স ১৯৮৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আর অনুমোদিত মূলধন ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার রয়েছে ১৭ লাখ। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ শেয়ার আছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন