ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২:৪৮ পূর্বাহ্ন

‘অচিন পাখি’র দরজা খোলা, তোমরা এসো : ফরিদা পারভীন

লালনসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি ফরিদা পারভীন পাঁচ দশক ধরে সুরের মাধ্যমে ছড়িয়েছেন লালন সাঁইয়ের দর্শন। দেশ-বিদেশের অগণিত সংগীতপ্রেমীর ভালোবাসায় সিক্ত এই শিল্পী জীবনের নানা প্রাপ্তি, অপূর্ণতা, ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন।

ঋতু পরিবর্তনের কারণে সামান্য অসুস্থ হলেও কণ্ঠ নিয়ে সচেতন এই শিল্পী জানান, *“করোনাকালীন সংকট কাটিয়ে ফের গাইতে পারছি, এটা সবার দোয়ার ফল।”* নিজেকে ‘লালনকন্যা’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, *“গাড়ি-বাড়ি না থাকলেও আমার একটা নিজস্ব সত্তা আছে, যেটা গর্বের।”*

বর্তমান প্রজন্মের লালনগীতি পরিবেশনা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, *“লালনগীতি গুরুমুখী বিদ্যা। আত্মস্থ করে অনুভব ছাড়া এটি পরিবেশন সম্ভব নয়। শুধু সুরে নয়, উচ্চারণেও থাকতে হবে সঠিকতা।”*
ফরিদা পারভীন ‘অচিন পাখি’ নামে একটি সংগীত একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে আগ্রহীদের লালনগীতি শেখানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তরুণদের আগ্রহের অভাবে হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি।

প্রথাগত বাদ্যযন্ত্র যেমন একতারা, দোতারা ও তবলার গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, *“কি বোর্ড সাপোর্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ছাড়া লালনগীতি অসম্পূর্ণ।”*

সংগীতে অর্জনের পরও কিছু অপূর্ণতার কথা জানান এই শিল্পী। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের কারণে সংগীতে আরও সময় দিতে না পারার আক্ষেপ আছে তার। তবে দিল্লিতে প্রণব মুখার্জির প্রশংসা কিংবা ফ্রান্স ও জাপানে লালনগীতির লাইভ রেকর্ড নিয়ে প্রাপ্তির স্মৃতিচারণা করে বলেন, *“এই প্রাপ্তিগুলোই আমার জীবনের বড় প্রাপ্তি। এক জীবনে ক’জনই বা এমন অর্জন করতে পারে!”*

ফরিদা পারভীন জানান, তার সংগীতের দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। *“‘অচিন পাখি’র দরজা খোলা, তোমরা এসো। আমি শেখাবো,”*—এভাবেই নতুন প্রজন্মকে আহ্বান জানিয়েছেন এই জীবন্ত কিংবদন্তি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ