মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার (রেপো রেট) একটি গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রানীতির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে সুদহারে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ দেয়, সেটিই নীতি সুদহার। সুদহার বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে আগ্রহী হয় না, ফলে অর্থের সরবরাহ কমে যায়।
নীতি সুদহার কী?
নীতি সুদহার হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা নির্ধারিত সেই সুদের হার, যার মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংকগুলো স্বল্প সময়ের জন্য ঋণ নিতে পারে। ইংরেজিতে একে রেপো রেট বলা হয়, যা মূলত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকরী পদ্ধতি।
নীতি সুদহার কীভাবে কাজ করে?
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে অতিরিক্ত নগদ তারল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতি সুদহার ব্যবহার করে। যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে বাজারে বেশি তারল্য রয়েছে, তখন তারা সুদহার বাড়ায়। এর ফলে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কম ঋণ নেয় এবং জনসাধারণের জন্য ঋণ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এইভাবে বাজারে টাকার সরবরাহ কমে যায়, যা মূল্যবৃদ্ধি কমাতে সহায়তা করে।

অর্থ সরবরাহের সঙ্গে নীতি সুদহারের সম্পর্ক
গত ২২ অক্টোবর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১০ শতাংশে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে, যা ব্যাংকগুলোর ঋণ নেয়ার আগ্রহকে কমাবে। সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাংকগুলো স্বল্পমেয়াদি আমানত সংগ্রহে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। যদিও নীতি সুদহার বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি
সঠিকভাবে নীতি সুদহার প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সুদহার বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর, তবে এটি অর্থনীতিতে ধীরগতি আনতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, সুদহার কমানোর মাধ্যমে বিনিয়োগ ও ব্যয় বৃদ্ধি সম্ভব, তবে এটি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অর্থনীতির সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।


















