ক্রিকেটে চোকার্স বলতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বোঝে সবাই। কিন্তু গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অনেকটা নীরবে সেই জায়গা দখল করে আছে ভারতও। তাই প্রোটিয়াদের সঙ্গে এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশটিও শিরোপা জিততে না পারার হতাশা ছড়িয়েছে। তাই ১৩তম ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুই চোকার্সের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য এবার। স্বাগতিক ভারত এবার ফেভারিট হিসেবে খেলছে। পরিসংখ্যান মতে, ২০১৩ সালের পর আইসিসি নির্ধারিত টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতেনি ভারত। বেশ কয়েকবার কাছাকাছি গিয়েও শিরোপার ছুঁয়ে দেখতে পারেনি তারা। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এবার ভারতের কাছে এসেছে। অন্যদিকে এখনো বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারা দক্ষিণ আফ্রিকাও রয়েছে ফেভারিটের তালিকায়।
এশিয়া কাপ জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ফলে মানসিকভাবেও বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে ভারত। তাই শিরোপার লড়াইয়ে বিশ্লেষক থেকে সাবেক ক্রিকেটার সবাই এবার এগিয়ে রাখছে ভারতকে। অধিকাংশ সাবেক গ্রেটরা রোহিত শর্মার দলকে দেখছেন বিশ্বকাপের ফাইনালে। অনেকে আবার এটিকে দেখছেন চাপ হিসেবেও। শক্তিশালী অবকাঠামো, প্রচুর বিনিয়োগ এবং মানসম্মত ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ভারতকে বানিয়েছে বিশ্বের বৃহৎ ক্রিকেটার তৈরির কারখানা হিসেবে। আইপিএলের মতো টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে মানিয়ে নেওয়া এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাপ সামলানোর বেশ ভালো প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকে ক্রিকেটাররা। তবে সাবেক ক্রিকেটাররা যতই বলুক মাঠে নিজেদের সেরা প্রমাণ করা ভারতের জন্য মোটেও সহজ হবে না। ভারত ছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার নামও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপে শিরোপা জয় এখনো অধরাই রয়ে গেছে প্রোটিয়াদের। ফেভারিটের তকমা নিয়ে প্রতিবার বিশ্বকাপে এলেও প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মেলবন্ধন ঘটেনি। ১৯৯২, ১৯৯৯, ২০১১ ও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেও ফাইনালের টিকিট পায়নি আলোচিত দলটি। এতে ‘চোকার্স’ তকমাটা চিরতরে জুড়ে গেছে তাদের জার্সিতে। এবার অবশ্য অপেক্ষা ফুরানোর লক্ষ্য ঠিক করেছে তারা। কুইন্টন ডি কক, ডেভিড মিলার, কাগিসো রাবাদা, হেনরিখ ক্লাসেন এবং এইডেন মার্করামের মতো খেলোয়াড়রা দারুণ ফর্মে থাকায় বড় কিছুর স্বপ্নও দেখছে।


















