ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ৫:০৩ পূর্বাহ্ন

এফডিসিতে নেয়া হবে না সোহানের মরদেহ

ঢাকাই সিনেমার প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। স্ত্রী মারা যাওয়ার একদিন পরই মারা যান এই চলচ্চিত্র নির্মাতা। এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার স্ত্রী মারা যান। জানা গেছে, তার মরদেহ এফডিসিতে নেয়া হবে না। বুধবার রাতে পরিচালক কাজী হায়াতের মাধ্যমে সোহানের বড় মেয়ে সৃষ্টি রহমান এই বার্তা পাঠিয়েছেন। এর কারণে প্রিয় কর্মস্থলে গুণী এই নির্মাতার মরদেহ শেষবারের মতো আর যাচ্ছে না।

কোনো চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, শিল্পী, কলাকুশলী কিংবা সাংবাদিক মারা গেলে মরদেহ এফডিসিতে নেওয়া হয়। সেখানে সহকর্মীরা তাকে শ্রদ্ধা জানান, স্মৃতিচারণ করেন। দীর্ঘদিন ধরে এফডিসিতে এ ধরনের আয়োজনে নেতৃত্ব দিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। কিন্তু তার মরদেহ এফডিসিতে নিতে রাজি নন তার তিন কন্যা।

এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন জানিয়েছেন, ইসলামিক রীতি অনুযায়ী পরিচালক সোহানের পরিবার তাড়াতাড়ি মরদেহ দাফন করতে চান। তাই রাতেই মরদেহ টাঙ্গাইলে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোরে জানাজা শেষে ফজরের পরপরই মরদেহ দাফনের কথা রয়েছে। স্ত্রীর কবরের পাশে শায়িত হবেন সোহানুর রহমান সোহান।

নব্বই দশকের শুরুর দিকে, সিনেমাপ্রেমী বাঙালিদের জন্য হঠাৎ আলোর ঝলকানি হয়ে নতুন এক ক্ষেত্র তৈরি করে ফেলে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। বাঙালি দর্শক পায় অসাধারণ এক সিনেমা। আরও পায় দুই প্রিয়মুখ মৌসুমী ও সালমান শাহ। এই অসাধারণ রূপান্তরের কাণ্ডারি তরুণ পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। প্রণয়ধর্মী সিনেমা নির্মাণ করে নিজের আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন। তারকা তৈরির কারিগর ছিলেন তিনি। সালমান শাহ, মৌসুমী থেকে শুরু করে শাকিব খান- অনেকেই তারকা হয়েছেন তার হাত ধরেই।

সোহানুর রহমান সোহানের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে, পরিচালক শিবলী সাদিকের সহকারী হিসেবে। ১৯৮৮ সালে মুক্তি পায় সোহানুর রহমান সোহান নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘বিশ্বাস অবিশ্বাস’। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে খ্যাতি লাভ করেন এ নির্মাতা। কর্মজীবনে টানা দুইবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব ও দুইবার সহসভাপতি ও একবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ