জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মাণ হচ্ছে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। রেডিও ও মাইক নামে নির্মিতব্য দুই চলচ্চিত্রের একটি আবার শিশুতোষ। রেডিও ছবি নির্মাণ করছেন পরিচালক অনন্য মামুন। কয়েকটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল’ লক্ষ্য করে ছবিটি বানানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর গ্রামে পদ্মা নদীর পাড়ে দুর্গম এলাকায় ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে এ ছবির শুটিং। অন্যদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরে শিশুতোষ ক্যাটাগরিতে সরকারি অনুদান পায় মাইক। এ ছবির গল্প লিখেছেন এফএম শাহীন। সহযোগী প্রযোজক হিসেবে থাকছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে কেন্দ্র করে নির্মাণ হবে পূর্ণদৈর্ঘ্য শিশুতোষ চলচ্চিত্রটি।
রেডিও সিনেমা প্রসঙ্গে শুটিং স্পট থেকে পরিচালক জানান, ৭ মার্চ ‘রেডিও’ সিনেমার প্রিমিয়ার হবে। শুধু কয়েকটি ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল’ টার্গেট করে ছবিটি বানাচ্ছেন। সিনেমা হল বা ওটিটিতে মুক্তি দেবেন পরে। আগেই কেন ফেস্টিভ্যালে মুক্তি দেবেন জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, গল্পটা আমাদের কমবেশি সবাই জানেন। কিন্তু বিদেশীরা জানেন, ৭ মার্চ গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ ছিল। ভাষণটি কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সারা দেশে প্রভাব ফেলে এটা অনেকেই জানেন না। জানাতে চাই, জাতি হিসেবে আমরা প্রতিকূলতার মধ্যেই কতটা লড়াই সংগ্রাম করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। পদ্মাপাড়ে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন রিয়াজ, জাকিয়া বারী মম, লুত্ফর রহমান জর্জ, নাদের চৌধুরী, প্রাণ রায়সহ অনেকে। চতুর্থ দিনের শুটিংয়ে পদ্মার পাড়ে ছিলেন সবাই। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ ওই অঞ্চলে এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। নদী পার হয়ে সেকেলে পদ্ধতিতে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে যেতে হয় লোকালয়ে। সেখানে রোদ এবং থেমে থেমে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শুটিং করছেন সবাই।
পরিচালক বলেন, ‘গল্পটা অনেক লোকেশনে শুটিং করার মতো নয়। পানিবেষ্টিত গ্রামের গল্প। সম্পূর্ণ ছবির শুটিং এ এলাকায় হচ্ছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুটিং করছি। ৩ মার্চ পর্যন্ত শুটিং করব। শুটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে এডিটিংও চলছে। ৭ মার্চ প্রিমিয়ার হবে।’
তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েক মাস ধরে রেডিওর গল্পটা নিয়ে কাজ করছি। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এমন এক ক্যানভাস, হাজারও গল্প নিয়ে ছবি বানালেও কনসেপ্ট শেষ হবে না। এ গল্পে মুক্তিযুদ্ধ থাকবে কিন্তু অন্য সাবজেক্ট তুলে ধরব। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যখন স্টাডি শুরু করি, বুঝেছি যুদ্ধের বিজয়ের নিশানটা ৭ মার্চে জাতির জনকের ভাষণ থেকেই শুরু। এ ভাষণের পর দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ হয়তো স্বাধীন রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে। তখন এ ভাষণ সারা দেশের মানুষ শুনতে পেয়েছিল রেডিওর মাধ্যমে। কারণ রেডিও ছাড়া দেশে এ কথাগুলো ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রচার মাধ্যম ছিল না।’ পরিচালকের কথা, যুদ্ধের আগে রেডিও যুদ্ধ সংগঠিত করতে যে ভূমিকা রেখেছিল, তাই উপজীব্য করে ছবিটি নির্মাণ হচ্ছে।
চিত্রনায়ক রিয়াজ বলেন, ‘একজন প্রতিবাদী মাস্টারের চরিত্র করছি। যে মানুষের অন্তরের আলো জ্বালেন। আলোটা তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে পান রেডিওর মাধ্যমে। একটা সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্য গড়ে তোলেন। শিল্পীদের চাওয়ার শেষ নেই। দর্শকেরও প্রত্যাশা অনেক। তবে পিরিওডিক্যাল ছবি করতে গেলে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকে। এ কনসেপ্ট নিয়ে ছবি করার উদ্যোগটা মহান। তাই সর্বোচ্চ দিয়ে কাজটি ভালো করার চেষ্টা করছি।’

সম্প্রতি মাইক চলচ্চিত্রটির অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য মাহমুদ সালাউদ্দিন, অভিনেতা তারিক আনাম খান, নাদের চৌধুরী, চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ, অভিনেত্রী তানভীন সুইটি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রটি নিয়ে মাহমুদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘বাংলা ও বাঙালির কাছে বর্তমানে চলচ্চিত্র নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।


















