নিষ্ফলা দুই সেশনের পর শেষ সেশনে স্বস্তি ফিরে পেল বাংলাদেশ। বোনার-মেয়ার্সের রেকর্ড গড়া জুটিতে ম্যাচ থেকেই বের হয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। অবশেষে বোনারকে ফিরিয়ে সে শঙ্কা কিছুটা হলেও কমিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তার হঠাৎ নিচু হওয়া বল সরাসরি আঘাত হানে বোনারের প্যাডে, এলবিডব্লিউ হন অভিষিক্ত এই ক্যারিবিয়ান। ২৪৫ বল মোকাবেলায় ৮৬ রান তুলে ফিরেছেন বোনার। স্কোরকার্ডে ১৭ ব্যবধানে উইন্ডিজ শিবিরে এবার আঘাত হানেন নাঈম। ব্লাকউডের স্ট্যাম্প উড়িয়ে তাকে ফিরিয়েছেন ৯ রানে।
অভিষেক টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন কাইল মেয়ার্স। তবে শান্তর হাতে জীবন না পেলে ফিফটি-ই করা হতো না। ৪৯ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ তুলেছিলেন, শান্ত তালুবন্দি করতে পারেননি। সেই মেয়ার্স তুলে নিলেন নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। ১৭৮ বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে চার মেরে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরির রেকর্ডে নাম লেখান। এর আগে ১০৬ জন ক্রিকেটার অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেছেন। মায়ার্সের আগে ১৩ জন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করেন।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পঞ্চম দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে ১১০/৩। ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন কাইল মেয়ার্স, ১৫ রানে এনক্রুমাহ বোনার।
চতুর্থদিনের শেষ সেশনের খানিক আগে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ২২৩ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে। ১১৫ রানের সেঞ্চুরি পান মমিনুল হক। লিটন দাস খেলেন ৬৯ রানের ইনিংস।
এর আগে ৩৯৫ রানের টার্গেটে নেমে ধীরেসুস্থেই শুরু করেছিল উইন্ডিজ দুই ওপেনার। দুইজনই যখন উইকেটে থিতু তখন ১৭তম ওভারের প্রথম বলেই এলবি’র ফাঁদে পড়েন ক্যাম্পবেল। সঙ্গে সঙ্গে আম্পায়ারকে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন এই ব্যাটসম্যান তবে রিভিউতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই রয়ে যায়। আর ক্যাম্পবেল ব্যক্তিগত ২৩ রানে দলীয় ৩৯ রানে ফেরেন।

এক ওভারের বিরতিতে ফিরে ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে তুলে নেন মিরাজ। বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলী রাব্বির দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন ব্র্যাথওয়েট (২০)। নিজের ৯ম ওভারে বল করতে এসে শেন মোসলেকে (১২) এলবি’র ফাঁদে ফেলে উইন্ডিজের তিন উইকেটের তিনটিই নিজের দখলে নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৫৯ রানে তিন উইকেট হারায় সফরকারীরা।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে মিরাজের প্রথম শতকে ৪৩০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে প্রথম ইনিংসে মিরাজের চার উইকেটে ২৪৯ রানে অলআউট হয় উইন্ডিজ দল। আর তাতেই মুমিনুল হকের দল প্রথম ইনিংসে লিড পেয়ে যায় ১৭১ রানের। দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক মুমিনুলের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি ও লিটন দাসের ৬৯ রানে ভর করে ২২৩ রানে ৮ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। তাতেই দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট লিড ৩৯৪।


















