ঢাকা, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন

অর্থনৈতিক অঞ্চলের ইজারা জমির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের চাপ

অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় (ইজেড) জমি ইজারা নেয়া বিনিয়োগকারীরাদের মূল্যের উপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা নতুন সমস্যায় পড়েছেন। দেখা দিয়েছে হতাশা। আগে ইজারা নেয়া জমির ইজারামূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দাবি করছে সরকার।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিনিয়োগকারীদের জন্য জমির যে ইজারামূল্য নির্ধারণ করেছে, তাতে ভ্যাটের বিষয়টি উলেস্নখ ছিল না। গত বছরের ১ জুলাই নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার পর এখন ভ্যাটের বিষয়ে বলা হচ্ছে। নতুন আইনে জমির ইজারামূল্যের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এমএ রহিম বলেন, ‘বিজিএমইএর পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আবার ডিবিএলের (ডিবিএল গ্রম্নপের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি) পক্ষ থেকেও চিঠি দিয়েছি। আমরা বলেছি, আমাদের পক্ষে এ ভ্যাট দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা যখন ইজারার চুক্তি করেছি, তখন ভ্যাটের বিষয়টি ছিল না। এখন সেটা চাওয়া হচ্ছে।’

বেজা সূত্র বলছে, সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল মিলিয়ে ১৯২টি প্রতিষ্ঠানকে জমি দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে দুই হাজার ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের। সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর, শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, মহেশখালী অর্থনৈতিক অঞ্চল (ধলঘাটা), জামালপুর অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সাবরাং টু্যরিজম পার্কে মোট ৮৩টি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে ইতোমধ্যে জমি ইজারা দেয়া হয়েছে অথবা ইজারার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সংগঠন বা সংস্থা জমি নিয়ে আবার তার সদস্য বা অন্য বিনিয়োগকারীদের জমি দিচ্ছে। যেমন বিজিএমইএ ৫০০ একর জমি নিয়ে ৭৪টি কারখানাকে বরাদ্দ দিচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে এক একর জমির ৫০ বছরের ইজারামূল্য পড়েছে এক কোটি টাকা, যার ওপর ভ্যাট চাওয়া হচ্ছে ১৫ লাখ টাকা। এভাবে ৫০০ একর জমির ইজারামূল্য দাঁড়ায় ৫০০ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ভ্যাট দিতে হবে ৭৫ কোটি টাকা। জমি ইজারা নেয়ার পর এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে ভ্যাট দাবি করছে সরকার, যা চুক্তিতে ছিল না। এ বিষয়ে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।’

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন