ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন

মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মঙ্গলবারের নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পাশাপাশি সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আসনেও জয় পেয়েছে দলটি। এর ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে।

মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন পূর্বাভাসে উঠে এসেছে। এসব ইস্যুতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির প্রতি ভোটারদের অনাস্থাকে কাজে লাগিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

সিনেটের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ায় কংগ্রেসে ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব সীমিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুই বছর আগে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এই প্রথম কংগ্রেসে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

নির্বাচনী পূর্বাভাস অনুযায়ী, কানসাস, টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইওর মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও সিনেট আসনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে দলটির চারটি আসনে নিট সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি মিশিগান ও মিনেসোটার আসনগুলোও ধরে রাখতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারণার পুরো সময়জুড়েই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপে ছিল রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জরিপে প্রেসিডেন্টের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার চিত্র উঠে আসে। ট্রাম্প নিজেও এমনভাবে ভোটারদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যেন তিনি নিজেই নির্বাচনের প্রার্থী।

এই পরিস্থিতিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি আসনে জয় পেয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে যেসব রাজ্য ও আসনে রিপাবলিকানরা সহজে জয়ী হয়েছিল, সেখানেও এবার ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য দেখা গেছে। ইন্ডিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ জার্সি ও পেনসিলভেনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আসন বেড়েছে দলটির।

এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা শেষ পর্যন্ত ২৪৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে ১৮৭টিতে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের সম্ভাবনায় আর্থিক বাজারেও প্রভাব পড়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এতে ডলারের দর কমেছে। অন্যদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের চাহিদা বেড়েছে।

সিনেট নির্বাচনে টেক্সাসের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি টেলারিকো রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে হারানোর পথে রয়েছেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় তিন দশক পর রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো কোনো ডেমোক্র্যাটের রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউর পূর্বাভাস অনুযায়ী, কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন জয়ী হতে যাচ্ছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে ১৯৩২ সালের পর প্রথমবারের মতো রাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট আসন পাবেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল নিজ রাজ্যে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। তাঁর প্রচারণায় চিকিৎসাকেন্দ্রে আগ্রাসী বিলিং পদ্ধতির অভিযোগ, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রভাব ফেলেছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও এনবিসি নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নর্থ ক্যারোলাইনার সাবেক গভর্নর ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রয় কুপার রিপাবলিকান মাইকেল ওয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। এ ছাড়া জর্জিয়ার সিনেটর জন ওসফ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের ক্রিস পাপাসও নিজ নিজ আসনে জয়ী হওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতা আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে রিপাবলিকানদের একক সমর্থনে ট্রাম্পের আইন পাসের সুযোগ শেষ হবে। তবে হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের হাতে থাকায় নতুন কোনো আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা জরুরি হয়ে উঠবে। পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতাও বহাল থাকবে।

তবে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের সুযোগ বাড়বে। প্রেসিডেন্ট, তাঁর প্রশাসন, পরিবার ও ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত শুরু করতে পারবে দলটি। এ ক্ষেত্রে সমন জারি এবং অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর মতো সাংবিধানিক ক্ষমতাও কাজে লাগাতে পারবে তারা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ