পুঁজিবাজারে বড় বিনিয়োগকারীদের অবরুদ্ধ থাকা পাঁচ শতাধিক সুবিধাভোগী মালিকের (বিও) হিসাব আংশিকভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব হিসাবে শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে। তবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো টাকা উত্তোলন করা যাবে না। কোনো হিসাবে মার্জিন ঋণ থাকলে তা সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৎকালীন কমিশন বেশ কয়েকজন বড় বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব অবরুদ্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। এসব হিসাবের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে কারসাজি করা হয়েছে কিংবা কোনো কোনো হিসাবে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ রয়েছে এমন সন্দেহের ভিত্তিতে হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা হয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল, এসব হিসাব থেকে যেন কেউ অর্থ সরিয়ে নিতে না পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের অবরুদ্ধ বিও হিসাবের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।
বিপুলসংখ্যক বিও হিসাব অবরুদ্ধ থাকায় পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এসব হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করতে না পারায় বিনিয়োগকারীদের অর্থ আটকে রয়েছে। ফলে বাজারের লেনদেনে এসব তহবিলের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে শর্তসাপেক্ষে হিসাবগুলো চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির ধীরগতি এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে পুঁজিবাজারে মন্দা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে বাজারে টানা দরপতন হয়েছে। বেশিরভাগ দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ৫০০ কোটি টাকার নিচে থাকছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাজারে তারল্য বাড়ানো এবং লেনদেনে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে অবরুদ্ধ বিও হিসাবগুলো শর্তসাপেক্ষে আংশিক চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।


















