ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ন

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের মেয়াদ এক বছর বাড়ল

পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে ব্যাংকগুলোর জন্য গঠিত বিশেষ তহবিলের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিলের সুবিধা বহাল থাকবে। ফলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলো আরও এক বছর বিশেষ তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট, বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের নিম্নমুখী প্রবণতা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, এর ফলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ানো এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ও তারল্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক নিজস্ব উৎস অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রেপোর (পুনঃক্রয় চুক্তি) মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করতে পারে। এ তহবিলের অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে ব্যবহার করা যায়। বিশেষ সুবিধা হিসেবে এ তহবিলের বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর প্রচলিত পুঁজিবাজার এক্সপোজার সীমার বাইরে গণনা করা হয়। ফলে সাধারণ বিনিয়োগসীমার অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারে।

তবে বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এর সর্বোচ্চ সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার দাবি রয়েছে বাজারসংশ্লিষ্টদের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিটি ব্যাংকের বিশেষ তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ এবং মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। সংগঠনটির প্রস্তাবে তহবিলের মেয়াদ ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু বিশেষ তহবিলের মেয়াদ বাড়িয়ে পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা ও আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করা, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির তালিকাভুক্তি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, বিশেষ তহবিলের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর ফলে পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ উদ্যোগের সুফল কতটা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করবে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, বাজার পরিস্থিতি এবং সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর ওপর।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ