ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ন

​আমদানি কমাতে ও রপ্তানি বাড়াতে দেশীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম শিল্পে নীতি সহায়তার আহ্বান: বিম্যাটস-এর প্রথম এজিএম উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ার্স (বিম্যাটস)-এর প্রথম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম/ইজিএম) উপলক্ষে রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের উৎসব হলে “পাওয়ার-আপ বাংলাদেশ: থ্রু ইমপোর্ট সাবস্টিটিউশন অ্যান্ড গ্রোয়িং এক্সপোর্ট উইথ ইলেকট্রিক্যাল ইকুইপমেন্ট – মেইড ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মিডিয়া স্পন্সর ছিলেন বাছাড় ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

​অনুষ্ঠানে বিম্যাটস-এর সভাপতি প্রকৌশলী আলী আজম-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সায়েদ মো. কামরুজ্জামান, এনডিসি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাছাড় ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এর
প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জ্বল কান্তি বাছাড়।
​সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী। তিনি চমৎকার অডিও-ভিজ্যুয়ালের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন, দেশীয় শিল্প সক্ষমতা এবং নীতিগত নানা সমস্যার বিপরীতে সম্ভাবনার চিত্র সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলেন।
​অনুষ্ঠানের সেরা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি (Quotes):
​বিম্যাটস-এর সভাপতি প্রকৌশলী আলী আজমের বক্তব্য: ​”দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের প্রসার কেবল একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের প্রধান শর্ত। সঠিক সরকারি নীতি সহায়তা, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং টেস্ট সার্টিফিকেশনের সুযোগ পেলে আমাদের দেশীয় শিল্প স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও শক্তিশালী স্থান দখল করতে সক্ষম।”
​”দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের প্রসার কেবল একটি বাণিজ্যিক বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের প্রধান শর্ত। সঠিক সরকারি নীতি সহায়তা, কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং টেস্ট সার্টিফিকেশনের সুযোগ পেলে আমাদের দেশীয় শিল্প স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও শক্তিশালী স্থান দখল করতে সক্ষম।”

​মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরীর বক্তব্য: ​”বাংলাদেশের ইলেকট্রিক্যাল ও শক্তি খাতে প্রবৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে আমরা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতকে একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে পারি।”
​”বাংলাদেশের ইলেকট্রিক্যাল ও শক্তি খাতে প্রবৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সঠিক নীতিমালার মাধ্যমে আমরা আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতকে একটি শক্তিশালী রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে পারি।”

​প্রধান অতিথি (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন)-এর বক্তব্য: ​”স্বদেশী শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের মূলধন দেশে রাখাই এখন সময়ের দাবি। সরকার মানসম্পন্ন গবেষণাগার স্থাপন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং জাতীয় ক্রয়ে গুণগত দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”
​”স্বদেশী শিল্পের বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের মূলধন দেশে রাখাই এখন সময়ের দাবি। সরকার মানসম্পন্ন গবেষণাগার স্থাপন, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং জাতীয় ক্রয়ে গুণগত দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

​সেমিনারের মূল বক্তব্য ও তথ্যচিত্র:
​সেমিনারে বিম্যাটস-এর সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আল জিলানী সংগঠনের কার্যক্রম ও সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনায় দেশীয় ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার ও প্যানেলের বাজারের চিত্র তুলে ধরা হয়।
​বক্তারা জানান, বর্তমানে প্রায় ৪৭৫ কোটি ডলারের দেশীয় চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশ পণ্যই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, অথচ বিম্যাটস-এর ৩৩টি সদস্যসহ শতাধিক দেশীয় প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য দেশে তৈরি করছে। বিম্যাটস-এর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ভারত, নেপাল, তানজানিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ ৮টি দেশে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে।
​বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের বর্তমান ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাজার আগামী ১০ বছরে ৯০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। সরকারি ক্রয়ে দেশীয় পণ্যে মূল্য অগ্রাধিকার, কাঁচামালে কম শুল্ক ও জাতীয় টেস্টিং ল্যাব সুবিধা পেলে আগামী ১০ বছরে দেশীয় আমদানিনির্ভরতা ২৫ শতাংশে নেমে আসবে, রপ্তানি বছরে প্রায় ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে এবং প্রায় ১,৪৩০ কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
​মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর একটি উন্মুক্ত প্যানেল আলোচনা ও প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিপিডিবি, ইপিবি, পাওয়ার সেল, বিপিপিএ, প্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শকের কার্যালয় ও বিএসটিআইয়ের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিম্যাটস-এর সাধারণ সম্পাদক উৎপল কুমার দাস এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিম্যাটস-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ