আসন্ন নভেম্বর মাসে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দর অপরিবর্তিত রেখে নভেম্বর মাসের জ্বালানি তেলের দাম ঘোষণা করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।
ফলে নভেম্বর মাসজুড়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।
সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের স্বাক্ষরে নভেম্বর মাসের জ্বালানির দাম নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের গত ২০ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনমূলে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের বিক্রয়মূল্য ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই মূল্যহার নভেম্বর, ২০২৬ মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হলো। অর্থাৎ, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যহার আগামী ১ নভেম্বর, ২০২৬ থেকেও বলবৎ থাকবে।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ বৃদ্ধির কারণে গত ২০ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম একলাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানো হয়। ওইদিন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হকের সই করা প্রজ্ঞাপনে দাম বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়েছিল।
ওই সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ, ২০২৬ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও সরকার জনস্বার্থে দেশে মূল্য বৃদ্ধি করেনি। ফলে মার্চ, ২০২৬ থেকে আগস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত বিপিসি’র প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা লোকসান হয়। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধিসহ সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চলমান রাখতে এবং জ্বালানি তেল পাচার রোধে দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কোনো বিকল্প ছিল না বলেও জানিয়েছিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।



















