ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গুর পর অতিরিক্ত চুল পড়ছে? কী করবেন

ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর অনেকের চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। গোসলের সময়, চিরুনিতে কিংবা বালিশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল দেখে উদ্বিগ্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক সমস্যা, যা সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুতর সংক্রমণ, উচ্চ জ্বর, শারীরিক দুর্বলতা ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিচক্র ব্যাহত হতে পারে। এ অবস্থাকে বলা হয় ‘টেলোজেন এফ্লুভিয়াম’। ডেঙ্গুর পর চুল পড়ার অন্যতম সম্ভাব্য কারণ এটি।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়ে কেন?

চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিচক্রে বৃদ্ধি, বিশ্রাম ও ঝরে পড়ার পর্যায় রয়েছে। উচ্চ জ্বর, সংক্রমণ, পানিশূন্যতা, মানসিক চাপ, ক্ষুধামন্দা কিংবা দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল বিশ্রাম পর্যায়ে চলে যেতে পারে। পরে সেসব চুল একসঙ্গে ঝরে পড়তে শুরু করে।

সাধারণত অসুস্থতার সময়ই চুল পড়া শুরু হয় না। বরং ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার প্রায় দুই থেকে চার মাস পর সমস্যাটি বেশি চোখে পড়তে পারে। এ কারণে অনেকেই চুল পড়ার সঙ্গে আগের অসুস্থতার সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।

ডেঙ্গুর পর চুল পড়া কি স্থায়ী?

সাধারণত টেলোজেন এফ্লুভিয়ামের কারণে চুল পড়া সাময়িক। এতে মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় টাক পড়ার বদলে পুরো মাথাজুড়ে চুলের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিচক্র ফিরে এলে নতুন চুল গজাতে শুরু করে। তবে আগের মতো ঘনত্ব ফিরে পেতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

তবে সব ক্ষেত্রে ডেঙ্গুকেই চুল পড়ার কারণ ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আয়রনের ঘাটতি, থাইরয়েডের সমস্যা, প্রোটিনের অভাব, হরমোনের পরিবর্তন এবং বংশগত কারণে চুল পড়তে পারে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা অতিরিক্ত চুল ঝরতে থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে কী খাবেন?

ডেঙ্গুর পর শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি ও শক্তি ফিরিয়ে আনতে সুষম খাবার খাওয়া জরুরি। চুলের প্রধান উপাদান কেরাটিন, যা এক ধরনের প্রোটিন। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা উচিত।

প্রোটিন: ডিম, মাছ, দুধ, দই, মাংস, ডাল, ছোলা ও সয়াবিন।

আয়রন: মসুর ডাল, শিম, সবুজ শাকসবজি ও তিল।

ভিটামিন সি: পেয়ারা, আমলকী, লেবু, টমেটো ও ক্যাপসিকাম। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া আয়রন শরীরে শোষণে এটি সহায়তা করে।

সুষম খাবার: নিয়মিত ভাত বা রুটি, শাকসবজি, ফল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

কোনো একটি খাবার খেলেই দ্রুত চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গুর পর চুলের যত্ন নেবেন যেভাবে

চুল পড়ছে বলে শ্যাম্পু করা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে চুল ধোয়া যেতে পারে। তবে চুল ভেজা অবস্থায় আলতোভাবে আঁচড়ানো এবং জোরে ঘষাঘষি এড়িয়ে চলা ভালো।

এ সময় আঁটসাঁট করে চুল বাঁধা, অতিরিক্ত হেয়ার ড্রায়ার বা হিট স্টাইলিং, ঘন ঘন রাসায়নিক ট্রিটমেন্ট এবং জোরে তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষা থেকে বিরত থাকুন। পাশাপাশি দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট না করে পর্যাপ্ত খাবার খান।

পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরে যাওয়াও সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়ক।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

চুল পড়া কয়েক মাস ধরে চলতে থাকলে, ক্রমেই বাড়লে, মাথার নির্দিষ্ট জায়গায় টাকের মতো ফাঁকা হয়ে গেলে কিংবা মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা ক্ষত দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক রক্তস্বল্পতা, আয়রনের ঘাটতি বা থাইরয়েডের সমস্যা পরীক্ষা করতে পারেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার আয়রন, বায়োটিন, জিঙ্ক বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না। শরীরে ঘাটতি না থাকলে এসব সাপ্লিমেন্ট অতিরিক্ত গ্রহণে উপকার নাও হতে পারে; বরং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

মনে রাখবেন: ডেঙ্গুর পর চুল পড়া অনেক ক্ষেত্রেই সাময়িক। সুষম খাবার, সঠিক যত্ন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ফিরে আসতে পারে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ