ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ন

আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবস আজ

আউল-বাউল আর লালনের দেশে বাংলা ব্যান্ড সংগীতকে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া শিল্পীদের একজন আইয়ুব বাচ্চু। বাংলা গানের এই কিংবদন্তি রকস্টার নিজের সাফল্যের পাশাপাশি ভালোবাসা, স্নেহ ও দিকনির্দেশনায় পথ দেখিয়েছেন একাধিক প্রজন্মকে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম প্রয়াণ দিবস। ২০১৮ সালের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ‘রূপালি গিটার’-এর জাদুকর। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পারিবারিকভাবে তাকে স্মরণ করা হবে এবং আয়োজন করা হবে দোয়া মাহফিল। ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরাও তাকে স্মরণ করবেন।

আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন স্বপ্নবাজ মানুষ। নিজে স্বপ্ন দেখেছেন, সাফল্য অর্জন করেছেন, আবার তরুণদেরও স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় অনেকেই সংগীতজগতে নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন।

কনসার্ট মাতানোয় আইয়ুব বাচ্চুর জুড়ি ছিল না। গায়কীর পাশাপাশি গিটারে তার অসাধারণ দক্ষতা শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। তবে এই কিংবদন্তি শিল্পীর একটি স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে। সেটি ছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশাল এক কনসার্ট আয়োজনের।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বপ্নের কনসার্টের পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন আইয়ুব বাচ্চু। সেখানে দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করতে চেয়েছিলেন তিনি। বিদেশি শিল্পীদের মধ্যে তার তালিকায় ছিলেন স্টিভ ভাই, জো সাত্রানি, কার্লোস সান্তানা ও ব্রিটিশ ড্রামার আয়েন পেজ। দেশের শিল্পীদের মধ্যে রাখতে চেয়েছিলেন জেমস, বেজবাবা সুমন ও মানাম আহমেদকে।

স্বপ্নের সেই আয়োজন সম্পর্কে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, ‘আমরা একটা স্লট বাজাবো, ঘণ্টা তিনেক ধরে। আর দর্শক থাকবে ১৫ লাখ। তাহলে সেটা হবে স্বপ্নের কনসার্ট।’

গিটার নিয়ে আজীবন আবেগ ছিল এই শিল্পীর। নামিদামি গিটার সংগ্রহের পাশাপাশি তিনি চেয়েছিলেন এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যেখানে ছেলেমেয়েরা গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখবে। সেখান থেকে একক শিল্পী ও ব্যান্ড গড়ে উঠবে, যারা বাংলা গানে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবে। তবে সেই স্বপ্নও বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি তিনি।

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্ম আইয়ুব বাচ্চুর। পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ছিল প্রবল। ছেলের আবদার মেনে ১৯৭৩ সালে বাবা তাকে একটি গিটার কিনে দেন। সেই গিটার ধরেই ধীরে ধীরে সংগীতশিল্পী হয়ে ওঠেন তিনি।

কলেজজীবনে বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ ব্যান্ড গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। ১৯৭৭ সালে যোগ দেন ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে, যেখানে জেমসের সঙ্গে একই দলে বাজিয়েছেন। পরে ১৯৮০ সালে যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে।

১৯৯১ সালে নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’ গঠন করেন আইয়ুব বাচ্চু। ওই বছরের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যান্ডটির প্রথম কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’। তবে তৃতীয় অ্যালবাম ‘সুখ’ প্রকাশের পর দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায় দলটি।

এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্পর্শ’ ও ‘যুদ্ধ’ অ্যালবাম।

ব্যান্ড সংগীতের পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আইয়ুব বাচ্চু। ‘রক্ত গোলাপ’, ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘পথের গান’ ও ‘জীবন’সহ ১৬টি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন তিনি। অন্তত এক ডজন সিনেমায় প্লেব্যাকও করেছেন এই শিল্পী।

গানের মাধ্যমে শ্রোতাদের যে ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন আইয়ুব বাচ্চু, তা আজও অটুট। ২০২৬ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। এ ছাড়া তার জন্মশহর চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে তার সম্মানে গিটার ভাস্কর্য।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ