ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কার নিয়ে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে বিতর্কিত উদ্যোগ এবং শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্তের জেরে ফিফার কাউন্সিল বৈঠকে একাধিক বিষয়ে জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ফিফা কাউন্সিলের সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে এসব বিতর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ঘিরে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ নামের একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় কাউন্সিল সদস্যদের কাছে ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি।
কাউন্সিল সদস্যদের সঙ্গে আগাম আলোচনা না করার বিষয়েও দুঃখ প্রকাশ করেন ফিফা সভাপতি। বৈঠকে দুই মার্কিন আইনজীবী প্রকল্পটির পক্ষে উপস্থাপনা দেন। পরে জানা যায়, প্রকল্পটি পর্যালোচনার জন্য ফিফাই তাদের নিয়োগ করেছিল। এতে তাদের স্বাধীনতা এবং উপস্থাপনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে, বিশ্বকাপে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়ে ফিফা। এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের তদবিরের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন কাউন্সিল সদস্যরা।
লাল কার্ড দেখার পর শাস্তি বাতিলের সুযোগ সীমিত করতে শৃঙ্খলাবিধি সংশোধনের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। তবে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর দোহায় অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইনফান্তিনো।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার নিয়ে। কাউন্সিলের কয়েকজন সদস্য পুরস্কারটি বাতিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যরা পুরস্কার দেওয়ার উদ্দেশ্য এবং বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া নতুন করে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছেন।
গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের হাতে ট্রফি, পদক ও সনদ তুলে দেন ইনফান্তিনো। তবে পুরস্কারপ্রাপক নির্বাচনের প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে প্রকাশ না করায় ফিফার স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি ফিফার ফুটবল ও সামাজিক দায়বদ্ধতাবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের কাউন্সিল বৈঠকের আগে এ বিষয়ে সুপারিশ জমা দিতে হবে কমিটিকে। আলোচনায় পুরস্কারের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা এবং বিজয়ী নির্বাচনে কঠোর মানদণ্ড চালুর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে এমন পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। ফলে ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত এখন ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।


















