ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ন

দুধে ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ

দুধে ভেজাল মেশানোকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি ও ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, শিশুখাদ্য হিসেবে দুধের কোনো বিকল্প নেই। অথচ দুধে ভেজাল মিশিয়ে শিশুদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পাবনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে ভেজাল দুধ প্রতিরোধে দুগ্ধ খামারি, উৎপাদক, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ সভায় সহযোগিতা করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের দুগ্ধ উৎপাদন ও দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পাবনার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে সম্প্রতি জেলার দুধ উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় ভেজালের খবর উদ্বেগ তৈরি করেছে। গুটিকয়েক অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি ক্ষুণ্ন হচ্ছে জেলার দুগ্ধশিল্পের দীর্ঘদিনের সুনাম।

ভেজাল প্রতিরোধে কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভেজাল দুধ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ দুধ নিশ্চিত করা শুধু সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে খামারি, সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দুধে ভেজাল মেশানোর প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, দুধের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পাবনার বিভিন্ন চিলিং সেন্টারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সভার আগে তিনি পাবনার চাটমোহর ও আটঘরিয়া উপজেলায় প্রাণ গ্রুপ এবং ফারুক চিলিং সেন্টার পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রাণ গ্রুপের চিলিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, দুধের গুণগত মান সন্তোষজনক না হওয়ায় ওই দিন পাঁচটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আসা দুধ ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মহাপরিচালক বলেন, ভেজাল দুধ প্রতিরোধে উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা দুধে ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ