ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩৫ পূর্বাহ্ন

ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল ডিএসই-বিএসইসি

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) এবং ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে ডিএসই টাওয়ার, নিকুঞ্জের মাল্টি-পারপাস হলে “Digital Deception and Scam Alert” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এ সেমিনারের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের কর্মসূচির সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি’র কমিশনার তানবীর হাবিব রহমান, অ্যাডভোকেট নাহিদ মাহতাব, মো: নাফিজ আল তারিক, সিএফএ এবং হোসাইন সাহাদত, এফসিএস এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএসইসি’র চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহের কর্মসূচি আজ শেষ হলেও বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা ও সুরক্ষার কার্যক্রম সারা বছর অব্যাহত রাখতে হবে।বাজারের উন্নয়নে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছি। ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের বিকাশ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিউচুয়াল ফান্ড এজেন্ট ও আর্থিক পরামর্শক তৈরির উদ্যোগ, আইপিও নীতিমালার সংস্কার, ডাইরেক্ট লিস্টিং বিধিমালা এবং নতুন বিনিয়োগপণ্য চালুর মাধ্যমে বাজারকে আরও গভীর ও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি টি+১ সেটেলমেন্ট ও স্ক্রিপ নেটিং চালুর বিষয়েও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাজারের কার্যক্রম ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ এবং আর্থিক তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কোম্পানির আর্থিক বিবরণী, বিশেষ করে পরিচালন কার্যক্রম থেকে সৃষ্ট নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ করা জরুরি। শুধু মুনাফার অঙ্ক দেখে নয়, কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা ও মৌলভিত্তি বিবেচনা করেই বিনিয়োগ করতে হবে। অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি কিংবা যাচাইহীন তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা, প্রেক্ষাপট ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন হতে হবে এবং নিজের বিনিয়োগ সম্পর্কে শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বিনিয়োগকারীকে শেখার সুযোগ করে দেওয়া যায়, কিন্তু সেই জ্ঞান কাজে লাগানোর দায়িত্ব তাঁর নিজের।
আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহের এই সচেতনতা যেন সারা বছরের চর্চায় পরিণত হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তার আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম৷ স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুরক্ষিত রাখতে ডিজিটাল প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে পুঁজিবাজারে ভুয়া পরিচয়, বিভ্রান্তিকর বিনিয়োগ পরামর্শ এবং রাতারাতি মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের প্রতি তাঁদের আস্থাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান আরও বলেন, এ ধরনের প্রতারণা মোকাবিলায় কার্যকর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। ডিএসই তার সার্ভেইল্যান্স ও মনিটরিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, পুঁজিবাজারের ইতিবাচক উদ্যোগ, সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম যথাযথভাবে জনসাধারণের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সুশাসন ও দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে সুদৃঢ় হয়।

মমিনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে একটি স্বচ্ছ, শক্তিশালী ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যের আলোকে তিনি ডিজিটাল প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসই আইসিটি ডিভিশন এর জেনারেল ম্যানেজার আবু নুর মোহাম্মদ হাসানুল করিম৷ মূল প্রবন্ধে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ, প্রতারণামূলক ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, পরিচয় জালিয়াতি, ফিশিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। তিনি অবাস্তব মুনাফার প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা, বিনিয়োগের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা বজায় রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পরবর্তীতে ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আইসিএবি’র, ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফুর রহমান এফসিএ, আইসিএসবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শাহজাহান, এফসিএস এবং সিএফএ সোসাইটি-এর প্রেসিডেন্ট মাহতাব ওসমানি সিএফএ৷

বিশেষ অতিথি বিএসইসির কমিশনার হোসাইন সাদাত, এসসিএস বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন ফোরামের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন, পেশাজীবী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অংশগ্রহণ করেছে। বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বারবার গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হলেও প্রকৃত সচেতনতা নির্ভর করে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে জ্ঞান অর্জন, বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুধাবন এবং দায়িত্বশীল আচরণের ওপর।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের কর্মসূচি কেবল এক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি প্রতীকী উদ্যোগ, যা পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আর্থিক মধ্যস্থতাকারী, বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সারাবছর সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জ্ঞান অর্জন, সঠিক উপলব্ধি এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিএসইসির কমিশনার নাফিজ আল তারিক, সিএফএ তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত বার্নি ম্যাডফের পঞ্জি স্কিমের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, প্রতারণামূলক বিনিয়োগ স্কিম সব সময় অস্বাভাবিক উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরিচালিত হয় না; কখনো কখনো ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল মুনাফা দেখিয়েও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হয়। বাজারের ওঠানামা সত্ত্বেও কোনো বিনিয়োগে নিয়মিত ইতিবাচক রিটার্ন দেখানো হলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রকৃত উৎস যাচাই করা জরুরি।

তিনি বলেন, দ্রুত ও সহজে অধিক মুনাফা অর্জনের লোভ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি শুধু বিনিয়োগ বা আর্থিক স্কিমেই সীমাবদ্ধ নয়; ই-কমার্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যেকোনো বিনিয়োগ বা আর্থিক লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা এবং অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতিতে সতর্ক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, অর্থ হারানোর ঝুঁকি কমাতে বিনিয়োগকারীদের আবেগ বা লোভের পরিবর্তে তথ্য, বাস্তবতা ও যুক্তির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সহজে ও অল্প সময়ে বিপুল মুনাফা অর্জনের প্রস্তাব দেখলে সেটিকে সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করে বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রস্তাবের সত্যতা যাচাই করতে হবে।
বিএসইসির কমিশনার মিসেস নাহিদ মাহতাব তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাপী ডিজিটালাইজেশনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্র ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত রাখতে আরও সতর্কতা, সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। দ্রুত বড়লোক হওয়ার প্রবণতা এবং লোভকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা বিনিয়োগকারীদের ফাঁদে ফেলছে। তাই অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ও দাবি যাচাই না করে কোনো আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক বিবরণী যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মুনাফার পরিমাণ দেখেই একটি কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না; বরং কোম্পানির পরিচালন কার্যক্রম থেকে সৃষ্ট নগদ প্রবাহ, বিনিয়োগ কার্যক্রম এবং অর্থায়নসংক্রান্ত তথ্যও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। এসব তথ্যের সমন্বিত বিশ্লেষণ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
বিনিয়োগকারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করলেই হবে না; বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিয়মিত শেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে জ্ঞান অর্জন এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তিনি বিনিয়োগকারীদের জেনে-বুঝে, দায়িত্বশীলভাবে এবং বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।
সবশেষে সমাপণী বক্তব্য দেন ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম৷ সমাপণী বক্তব্যে তিনি পুঁজিবাজারের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বাজারের ওপর অতিরিক্ত বিক্রয়চাপ এড়াতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি আরও জানান, পুঁজিবাজারে সহায়তার জন্য পূর্বে অনুমোদিত ২০০ কোটি টাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য তিনি বিএসইসি চেয়ারম্যানের প্রতি আহ্বান জানান।
আইপিওর ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীর ১২০ দিনের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে ডিবিএ সভাপতি বলেন, নতুন আইপিও বিধিমালার অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ নিরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। এ কারণে আর্থিক বিবরণীর মেয়াদ ১২০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৮০ দিন করা এবং নতুন আইপিও বিধিমালার প্রেক্ষাপটে সাময়িক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ